
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। এবার তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ তুলেছেন সিঙ্গুরের স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের দাবি, প্রাক্তন মন্ত্রীর ‘মোহর’ নামের বাগানবাড়িতে রাতের অন্ধকারে মহিলাদের নিয়ে এসে আমোদ-প্রমোদের আসর বসত। এমনকী, রাত বাড়লে সেখান থেকে ঘুঙুরের আওয়াজও শোনা যেত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে বাগানবাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। বিক্ষোভের সময় এক ব্যক্তিকে ইন্দ্রনীল সেনের আদলে সাজিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানো হয়। অন্যদিকে, দুর্গাপুজোর পাস সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় বৃহস্পতিবার আদালতে পেশ করা হয় প্রাক্তন মন্ত্রীকে। আদালত তাঁকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে বাগানবাড়ি ঘিরে ওঠা নতুন অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
সিঙ্গুরের বাগডাঙা ছিনামোর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রয়েছে ইন্দ্রনীলের বাগানবাড়িটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত ১২টার পর ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়িতে গাড়ি ঢুকত। সেই গাড়িতে করে অল্প বয়সি সুন্দরী মহিলাদের নিয়ে আসা হত। সারারাত ধরে মেয়েদের নিয়ে ফুর্তি করা হত। চলত আমোদ প্রমোদ। ইন্দ্রনীলকে ‘দ্বিতীয় শাহজাহান’ বলেও উল্লেখ করেন বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, চাষিদের ভয় দেখিয়ে বাগানবাড়ির জমি জখল করেছেন ইন্দ্রনীল। রাস্তাও দখল করেছে। পুজোর পাস সংক্রান্ত দুর্নীতির টাকা এই বাগানবাড়িতে খরচ হয়েছে। এর পিছনে সিঙ্গুরের প্রাক্তন বিধায়ক বেচারাম মান্নাও রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এই বাগান বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে নিকাশি বন্ধ করে পঞ্চায়েতে টাকায় নিয়ম বহির্ভূত ভাবে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। বাগানবাড়ির জায়গা ‘দখল’-এর ক্ষেত্রে সিঙ্গুরের প্রাক্তন বিধায়ক বেচারাম মান্নার ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা সাহায্য করেছিলেন। তাঁদের প্রত্যেককে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান বাসিন্দারা।
