Agnimitra Pal | "হোয়াটসঅ্যাপের যুগে হারিয়েছে বিজয়া দশমীর রঙিন পোস্টকার্ড", পুরানো স্মৃতিচারণ অগ্নিমিত্রা পালের

Agnimitra Pal
Agnimitra Pal

 

কলকাতা, ২৪ অক্টোবর : সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমও বদলে গেছে। এক সময় ছিল যখন দুর্গাপূজা শেষ হওয়ার পর মানুষ প্রিয়জনদের চিঠি এবং রঙিন পোস্টকার্ডের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত। আজ হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা, কয়েকটি ইমোজি এবং পুরনো ছবির মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই শুভেচ্ছা পৌঁছে যায়। কিন্তু এই দ্রুতগতির যোগাযোগের মাঝে চিঠির অপেক্ষার সেই জাদুকরী অনুভূতি যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। সমাজ মাধ্যমে এমনই এক আবেগঘন স্মৃতি শেয়ার করেছেন রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

অগ্নিমিত্রা পাল সমাজ মাধ্যমে একটি অডিও বার্তায় যা বলেছেন তার সারমর্ম হলো, এখন বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানানোর জন্য কোনো প্রিয়জনের ঠিকানা খোঁজা এবং রঙিন পোস্টকার্ড পাঠানোর প্রয়োজন হয় না। কলম দিয়ে মনের কথা লিখে কাগজের পাতায় ভালোবাসা পাঠানোর দিন প্রায় শেষ। এখন একটি বার্তা এবং দু-চারটি ইমোজি পাঠিয়েই শুভেচ্ছার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়ে যায়। ওপাশ থেকে 'শুভ বিজয়া' উত্তর এলেই মনে হয় দায়িত্ব শেষ হলো। কিন্তু এই সহজলভ্যতার মাঝে অপেক্ষার জাদু এবং চিঠিতে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসার গন্ধ হারিয়ে গেছে।

নিজের শৈশবের স্মৃতি তাজা করে তিনি জানান, দুর্গাপূজা শেষ হওয়ার পর মন বিষণ্ণ হয়ে যেত। ঢাকের শব্দ থেমে যাওয়া এবং উৎসবের জাঁকজমক শেষ হওয়ার মাঝেই শুরু হতো এক নতুন অপেক্ষা— ডাকপিয়নের অপেক্ষা। তিনি তাঁর বোনের সাথে বসে পিয়নের সাইকেলের ঘণ্টার শব্দ শোনার জন্য অপেক্ষা করতেন। মনে চরম ঔৎসুক্য থাকত যে কখন পিয়ন বাড়ির সামনে আসবেন এবং তাঁর ব্যাগ থেকে তাঁদের নামে কোনো চিঠি বের করবেন।

নিজের নামের খাম দেখে যে আনন্দ পাওয়া যেত, আজকের প্রজন্মের পক্ষে তা বোঝা কঠিন। পরিচিত মানুষের হাতের লেখা, কাগজে ছড়িয়ে থাকা কালি এবং শব্দের পাশে লেখা ছোট ছোট কথা—প্রতিটি চিঠিকেই বিশেষ করে তুলত। সেটা শুধু কাগজের টুকরো ছিল না, বরং দূরে থাকা কোনো প্রিয়জনকে অনুভ করার মাধ্যম ছিল।

তিনি বাড়িতে জমে থাকা অজস্র চিঠি, খাম এবং পোস্টকার্ডের কথাও উল্লেখ করেছেন। কোনো চিঠিতে পূজার গল্প থাকত, আবার কোনোটিতে আত্মীয়দের বাড়ি আসার প্রতিশ্রুতি। প্রতিটি চিঠিতেই দূরে থাকা মানুষের স্নেহ ও অনুরাগ জড়িয়ে থাকত। সেই চিঠিগুলো বারবার পড়া এবং বোনের সাথে গল্প শেয়ার করা ছিল শৈশবের এক অমূল্য স্মৃতি।

অগ্নিমিত্রা পলের এই পোস্টে অতীত দিনের প্রতি এক গভীর আবেগ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। চিঠি হয়তো এখন পুরনো হয়ে গেছে, কিন্তু তার সাথে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি আজও মনে জীবন্ত। তাঁর লেখনি যেন সেই অতীতে ফিরে যেতে চায়, যখন তিনি এবং তাঁর বোন পিয়নের সাইকেলের ঘণ্টা শোনার জন্য আকুল হয়ে অপেক্ষা করতেন।প্রযুক্তি যোগাযোগকে সহজ করে তুলেছে ঠিকই, তবে হাতে লেখা চিঠিতে লুকিয়ে থাকা আন্তরিকতা এবং তার অপেক্ষার আনন্দ আজও নিজের জায়গায় অনন্য।

শেয়ার করুন:

You might also like!

    লোড হচ্ছে…