
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: উপনির্বাচন শেষ হতেই ফের ধাক্কা খেল ঋত শিবির। গণতান্ত্রিক তৃণমূলের মহিলা সভানেত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়েই তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। বিধায়কদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সাবিনা লেখেন, সংগঠনকে নতুন করে সাজাতে হলে অনেক ছোটাছুটি করতে হবে। শারীরিক অবস্থার কারণে সেই দায়িত্ব সামলানো তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেও বার্তা দিয়েছেন তিনি। উপনির্বাচনের পর এই পদত্যাগকে ঘিরে সংগঠনের অন্দরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চিঠিতে তাৎপর্যপূর্ণভাবে সাবিনা লিখেছেন, পদ ছাড়েলেও দল ছাড়ছেন না তিনি। উল্লেখ্য, চিঠিতে সাবিনা ইয়াসমিন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিপ্লব মিত্রকে উল্লেখ করে ন। এখানেই সাবিনার রাজনৈতিক গতিবিধি নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তাহলে কি মালদহের নেত্রী কি কামব্যাক করছেন মমতার শিবিরে? কারণ তাঁর লেখা চিঠিতে কোথাও ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসের নাম না থাকায় এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগে ঋত শিবিরে য়াওয়া বিধায়কদের ১৫ দিনের ডেডলাইন দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট তৃণমূল ইতিমধ্যে দাবি করেছে, ঋতব্রত তৃণমূলের অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে তাঁর সঙ্গে থেকে কাজ করতে চান। বঙ্গ রাজনীতিতে সেই সম্ভাবনা আবার তৈরি হবে নাকি বিকল্প কোনও পথে বিজেপি বিরোধী জোট শক্তি পাবে সেই নিয়ে চর্চাও শুরু হয়েছে। যদিও পদত্যাগী সাবিনার দাবি করেছেন, ‘পদ ছেড়েছি তার মানে এই নয় যেন, দল ছাড়ছি বা অন্য কোনও রাজনীতির সম্ভাবনা নেই। পদে ইস্তফা দিয়েছি মানেই দল ছেড়ে অইন্য কোথাও যাব, এর কোনও যুক্তি নেই।’
এর আগে মমতা শিবির ছেড়ে ঋতব্রতর শিবিরে নাম লেখানোর অভিযোগ তুলে ১০ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সেই তালিকায় নাম ছিল সুজাপুরের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনেরও। এবার ঋতশিবিরের মহিলা সভানেত্রীর পদ ছাড়তেই তাঁকে ঘের জল্পনা শুরু হয়েছে।
