
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনার প্রশ্নে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর কড়া শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ওয়াশিংটন। অথচ সেই রাশিয়ার সঙ্গেই তেলচুক্তি করে এবার নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্য দেশগুলির ক্ষেত্রে রুশ জ্বালানি কেনা নিয়ে আপত্তি তুললেও নিজের পদক্ষেপকে ‘সঠিক’ বলে দাবি করেছেন তিনি। ফলে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ভারত, চিন-সহ একাধিক দেশের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে তাঁর এই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতির অঙ্গনে বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে।
নিজস্ব সোশাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশাল’-এ ট্রাম্প ‘ভণ্ড’ বলে আক্রমণ করেছেন সংবাদমাধ্যমকে। তাঁর অভিযোগ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অতীতে যে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কিনেছিল, সেটা উপেক্ষা করেছে মিডিয়া। তিনি লিখেছেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন জ্বালানির জন্য রাশিয়াকে ২৫০ বিলিয়ন ডলার দিয়েছিল। অথচ ‘ফেক নিউজ মিডিয়া’ সেই খবরটার ধারেকাছেও ঘেঁষতে চায় না।’ আর সেই সঙ্গেই নিজের জ্বালানি নীতির পক্ষে সাফাই গেয়ে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি মার্কিন জনগণের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি। সব সময়ই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা আমেরিকাই সবার আগে।’শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, আমেরিকা-সহ বিশ্ব বাজারে ৩ লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে রাশিয়া। এছাড়া নভেম্বরে আরও ৫ লক্ষ মেট্রিক টন এবং পরবর্তীতে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মস্কো। আগামী নভেম্বরে আমেরিকায় রয়েছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে আমেরিকা-সহ বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম। শুধু তাই নয়, ট্রম্পের দেশে জীবনযাত্রার ব্যয়ও উল্লেখ্যযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ মার্কিন জনগণের একাংশ। এর জেরে ভোটের আগে কিছুটা চাপে রয়েছে রিপাবলিকানরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতেই তড়িঘড়ি রাশিয়ার সঙ্গে তেলচুক্তি করেছেন ট্রাম্প।এদিকে চারজন রিপাবলিকান-সহ ৬ জন মার্কিন সেনেটর ট্রাম্প প্রশাসনকে এই চুক্তি থেকে অবিলম্বে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, রাশিয়া যেখানে ইউক্রেনের সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করছে, সেখানে আমেরিকার উচিত নয় পুতিনকে কোনওভাবে আর্থিক সহায়তা করা।
