
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দুর্গাপুজো মানেই নতুন পোশাক, উৎসবের আনন্দ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে খুশির মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়া। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে অনেকের কাছেই পুজোয় নতুন জামাকাপড় কেনা কঠিন হয়ে ওঠে। সেই সব মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যেই অভিনব উদ্যোগ ‘নমো শপিং মল’। নাম শুনে স্থায়ী কোনও বিলাসবহুল বিপণি বলে মনে হলেও, এটি আসলে দুর্গাপুজো উপলক্ষে তৈরি করা একটি অস্থায়ী বাজার বা স্টল। সেখানে মাত্র ১০ টাকায় নতুন পোশাক কেনার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ও দুস্থ মানুষদের।
বিজেপির কয়েকজন সদস্যের উদ্যোগে চালু হওয়া এই অস্থায়ী বাজারের মূল উদ্দেশ্য ছিল, উৎসবের আনন্দ থেকে যাতে কেউ বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা। পুজোর সময় নতুন পোশাক কেনার ইচ্ছা থাকলেও যাঁদের পক্ষে তা সম্ভব হয় না, তাঁদের জন্য এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। নামমাত্র মূল্যে পোশাক কেনার সুযোগ পেয়ে উপকৃত হতে পারেন বহু মানুষ। সাধারণত দুর্গাপুজোর সময় বাজারে নতুন পোশাক কেনার জন্য ভিড় বাড়ে। দোকানপাটে চলে কেনাকাটার ব্যস্ততা। তবে সমাজের সব স্তরের মানুষের পক্ষে সমানভাবে সেই আনন্দে শামিল হওয়া সম্ভব হয় না। সেই ব্যবধান কিছুটা কমানোর লক্ষ্যেই ‘নমো শপিং মল’-এর মতো উদ্যোগের ভাবনা। মাত্র ১০ টাকায় নতুন পোশাক পাওয়ার সুযোগ আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলির কাছে পুজোর প্রস্তুতিকে কিছুটা সহজ করে তুলতে পারে।
এই মলটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
কী আছে এই মলে?
• পোশাকের সমাহার: এখানে শাড়ি, সালোয়ার স্যুট, জিন্স, কুর্তি এবং বিভিন্ন ধরনের ছেলেদের ও বাচ্চাদের নতুন পোশাকের এক বিশাল স্টক রাখা হয়েছিল।
• মাত্র ১০ টাকায় শপিং: মাত্র ১০ টাকার একটি কয়েন বা নোটের বিনিময়ে দুস্থ ও নিম্নবিত্ত মানুষ তাদের পছন্দের যেকোনো একটি নতুন পোশাক বেছে নিতে পেরেছেন। বিনামূল্যে দান না করে নামমাত্র মূল্যে এই পোশাক দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল ক্রেতাদের আত্মসম্মান ও আনন্দ বজায় রাখা।
কুপন ব্যবস্থা: আয়োজকদের পক্ষ থেকে আগে নির্দিষ্ট কুপন বিতরণ করা হয়েছিল, যা দেখিয়ে এই মল থেকে শপিং করা গেছে।
তবে ‘নমো শপিং মল’ কোনও স্থায়ী শপিং মল নয়। এটি দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে নেওয়া একটি অস্থায়ী ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে উৎসবের আনন্দকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
