
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:কালীপুজো ও দীপাবলিতে পরিবেশদূষণ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে নিয়ম মেনে বাজি ফাটানোর উপর জোর দিচ্ছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দীপাবলিতে সকলেই উৎসবের আনন্দে মাতবেন, তবে তা করতে হবে নির্ধারিত নিয়ম মেনে। শব্দবিধি লঙ্ঘন করে যাতে অন্যের অসুবিধা না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন, শব্দ দূষণ রুখতে জনগণকে সচেতন হতে হবে। বাজি-পটকা পোড়ানোতে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও নির্দিষ্ট ডেসিবেলে তা পোড়াতে হবে। মানতে হবে ‘সাইলেন্স জ়োন’-এ শব্দবাজি না পোড়ানোর নিষেধাজ্ঞা। সাইলেন্স জ়োনে রয়েছে স্কুল, হাসপাতাল, বৃদ্ধাবাস। হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে শব্দবাজি পোড়ানো যাবে না। ‘সাইলেন্স জ়োন’-এ নীরবতা বজায় রাখতে প্রশাসন নজরদারি চালাবে।
এ দিন নবান্নে রাজ্যের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রসচিব। তিনি জানান, প্রশাসন বাজি তৈরির কারখানা, বাজি মজুত ও বিক্রির জায়গায় বিশেষ নজরদারি চালাবে। এ ছাড়া বাজি ব্যবসায়ীরা যাতে নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি করতে না পারেন, সেই দিকেও থাকবে কড়া নজর।
স্বরাষ্ট্র সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ জানিয়েছেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ অনুমোদিত 'সবুজ বাজি' ছাড়া অন্য কোনও বাজি ব্যবহার করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে দীপাবলির দিন রাত ৮টা থেকে ১০টা এবং ছটপুজোর দিন ভোর ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্তই বাজি পোড়ানোর অনুমতি থাকবে। পাশাপাশি, সবুজ বাজির ক্ষেত্রে শব্দ সৃষ্টিকারী বাজির সর্বোচ্চ মাত্রা ১২৫ ডেসিবল এবং আলোক সৃষ্টিকারী বাজির ক্ষেত্রে ৯০ ডেসিবল নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ জানিয়েছে, অনুমোদিত সবুজ বাজির প্যাকেটে থাকা কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে সাধারণ মানুষ বাজিটির বৈধ কিনা তা যাচাই করতে পারবেন। বহুতল আবাসনে বাজি ফাটানোর ক্ষেত্রেও বাসিন্দাদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।কালীপুজো ও দীপাবলি উপলক্ষ্যে কোথাও নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি হলে বা অন্য কোনও অভিযোগ জানাতে নবান্নের পক্ষ থেকে চালু করা হবে বিশেষ নম্বর। কন্ট্রোল রুমের নম্বর পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ জানিয়েছেন, দীপাবলিতে আনন্দ করবেন সকলে। কিন্তু অন্য কারও অসুবিধা করে দীপাবলি পালন করা বা সাধারণ মানুষের ক্ষতি করা বরদাস্ত হবে না।
