
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের কৃষকরাই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাঁদের পরিশ্রমের উপর নির্ভর করেই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতি এগিয়ে চলেছে। কৃষকদের দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে অভিহিত করে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি (পিএম-কিষান) প্রকল্পের আওতায় দেশের কোটি কোটি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি আর্থিক সহায়তা পাঠাল কেন্দ্রীয় সরকার। দীপাবলির আগে এই অর্থ পেয়ে স্বস্তি মিলবে কৃষক পরিবারগুলির, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবার গুজরাটের বনাসকাঁঠা জেলার ভিলডি থেকে পিএম-কিষান প্রকল্পের ২৪তম কিস্তির অর্থ হস্তান্তর কর্মসূচির সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এই পর্যায়ে দেশের প্রায় ৯ কোটি ৩৪ লক্ষ কৃষকের অ্যাকাউন্টে মোট ১৮ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। যোগ্য প্রত্যেক কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২ হাজার টাকা করে জমা পড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষক পরিবার উপকৃত হবেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অন্নদাতারাই সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ। কৃষকদের পরিশ্রম ও নিষ্ঠা দেশের উন্নয়নের ভিত্তি। তাঁদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করে তোলা এবং কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কৃষকদের হাতে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের দৈনন্দিন চাষের খরচ মেটানোর ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি দেওয়াই এই প্রকল্পের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, গুজরাটের ৫০ লক্ষেরও বেশি কৃষক এই কিস্তির সুবিধা পেয়েছেন। তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সম্মিলিতভাবে ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ পাঠানো হয়েছে। শুধু বনাসকাঁঠা জেলাতেই লক্ষাধিক কৃষক পরিবারের কাছে পৌঁছেছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। কেন্দ্রের দাবি, এই আর্থিক সহায়তা কৃষকদের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য কৃষক পরিবারগুলিকে বছরে মোট ৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তিনটি সমান কিস্তিতে সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়। অর্থাৎ প্রতি চার মাস অন্তর ২ হাজার টাকা করে পান উপভোক্তারা। ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি পদ্ধতিতে টাকা পাঠানোয় মাঝখানে কোনও মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা থাকে না। এদিন কৃষিক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক বরাদ্দের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষের তুলনায় বর্তমানে দেশের কৃষি বাজেট পাঁচ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। কৃষকদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি ব্যবস্থাকে আধুনিক ও শক্তিশালী করে তোলার উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
কৃষিকাজে বীজ, সার, সেচ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য নিয়মিত অর্থের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ক্ষেত্রে এই খরচ সামাল দেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতে পিএম-কিষান প্রকল্পের অর্থ তাঁদের কিছুটা আর্থিক স্বস্তি দেয়। পাশাপাশি কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ, হিমঘর, গুদাম, প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং উন্নত বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমেও কৃষকদের সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্র। তবে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে কৃষকদের আধার সংযুক্তিকরণ, ই-কেওয়াইসি এবং জমির নথি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিক রাখা জরুরি। তথ্যের অসঙ্গতি বা অসম্পূর্ণ নথির কারণে অনেক সময় কিস্তির টাকা পেতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই উপভোক্তাদের নিজেদের তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দীপাবলির আগে পিএম-কিষান প্রকল্পের ২৪তম কিস্তিতে ১৮ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা হস্তান্তর কেন্দ্রের কৃষক সহায়তা কর্মসূচিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কৃষকদের দেশের উন্নয়নের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের আর্থিক সুরক্ষার উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে শুধু আর্থিক অনুদান নয়, ফসলের ন্যায্য মূল্য, উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়নও যে কৃষকদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিষয়টিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
