
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের পতনের পরেও নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। দলের রাজনৈতিক দুর্দিনে প্রথম কয়েক দিন কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশপাশে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তবে মাস দুয়েকের মধ্যেই মমতার সঙ্গ ছেড়ে তৃণমূলেরই অন্য গোষ্ঠী, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেন তিনি। প্রবীণ রাজনীতিক হিসেবে দলের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মদন। সতীর্থদের হয়েও বিভিন্ন সময়ে সরব হতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। কিন্তু এবার যেন রাজনীতির ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন তিনি। পুজোর আগেই রাজনীতি ছাড়ার আভাস দিয়েছিলেন মদন। আর বিজয়ার দিনে সরাসরি সেই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে নতুন করে জল্পনা উসকে দিলেন কামারহাটির বিধায়ক। কেন রাজনীতি ছাড়তে চাইছেন তিনি? তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মদন বলেন, “এখন চালের মধ্যে কাঁকড় বেশি। তেমনই রাজনীতিতেও অধার্মিক-অনৈতিক লোক বেশি। আমি এই রাজনীতিকে ঘৃণা করি এবং রাজনীতিক হিসেবে নিজের প্রতিও আমার ঘৃণা হয়।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
উমা বিদায় নিয়েছে। আকাশে-বাতাসে বিষাদের সুর। কিন্তু কামারহাটির বিধায়কের মনে এমন বিষাদের বাদ্যি বেজে ওঠার কারণ কী? মদন বললেন, “জীবনে প্রথম এমন বিজয়া, যাঁরা আমাকে জিতিয়েছে, আমি তাদের কাছে যেতে পারলাম না। খুন-সন্ত্রাস-হিংসা-নিরাপত্তার ভয়ে। আমাকে খুনের চেষ্টা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম, তিনিও পুলিশকে বলেছেন।” মদনের কথায়, “এবার যাব, তাতে যদি মৃত্যু আসে, তাও ভালো। মুখ্যমন্ত্রী সারা বাংলার ঘুরলেন, আমি পারলাম না। বন্দুক নিয়ে খুনিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্যে। আমি জেল খাটার পরেও নির্বাচনে আমার মার্জিন বেড়েছে। বিজয়াটা কেন চোখের জল দিয়ে করতে হবে?”
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কেরিয়ার। একদা মমতার ‘কালারফুল বয়’-এর ভবিষ্যৎ কী? প্রশ্নের জবাবে মদন বললেন, “আমি কনফিউসড। আমি চেষ্টা করব, এমন কিছু না করার যাতে মানুষ কষ্ট পায়। এখন একমাত্র কাজ হচ্ছে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া। আমি রাজনীতিতে খুব ক্লান্ত। রাজনীতিতে আমার ঘৃণা এসে গেছে। আমি বলছি রাজনীতিকে ঘৃণা করি। সেই রাজনীতির একটা অংশ হিসেবে নিজেকেও ঘৃণা করি। কারণ আমি মনে করি মানুষের সঙ্গে বেইমানি করছি, মিথ্যে কথা বলছি, প্রতারণা করছি।” এ কথা বলতে খানিক গলা ধরে আসে তাঁর। চোখের কোনে তখন চিকচিক করছে জল। কিন্তু পর মুহূর্তের মুখে হাসি নিয়ে ধরে আসা গলাতেই মদনের বলেন, “চোখের জলটা আনন্দের। আমার ভিতরের কথাটা বলতে পারলাম। এখন চালের মধ্যে কাঁকড় বেশি। অল্প কাঁকড় হলে বেছে নেওয়া যায়, কিন্তু গোটা চালটা যদি কাঁকড়ে ভরে যায়। তাহলে চলবে না। অধার্মিক-অনৈতিক লোকে ভরে গেছে রাজনীতিটা।”
তাহলে কি ঋতব্রত শিবিরে নাম লেখানো ভুল বলে মনে করছেন মদন? তাঁর কথায়, “ভুলের ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়। ক্রিটিকাল সেনসিটিভ জায়গায় আছি। আমি এটা বিশ্বাস করি, ঈশ্বর ছাড়া কেউ কাউকে আশ্রয় দিতে পারে না। এই পুজোয় আমি সেটা বুঝে নিয়েছি। কেউ কাউকে আশ্রয় দিতে পারে না। মমতার সম্পর্কে কুৎসিত কথা বললে, মানুষ বলবে কালচার নেই। মমতা-শুভেন্দু দু’জনকেই বিজয়ার শ্রদ্ধা-ভালবাসা জানাই। সবার কাছে আবেদন, অহংকারে মত্ত হয়ে মানুষের কথা ভুলে যাবেন না।” সামনেই পুরভোট, বিজয়ার বার্তা দিয়ে রাজনীতির ময়দান থেকে মদনের বিদায় ঘোষণা যে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, কোন দিকে মোড়ে নেয় কামারহাটির বিধায়কের রাজনৈতিক কেরিয়ার।
