
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: লোকসঙ্গীতের জগতে পরিচিত ও জনপ্রিয় নাম পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চে তাঁর গান পরিবেশনা বরাবরই শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। ‘সারেগামাপা’-র মতো জনপ্রিয় সংগীতের রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চ থেকেই ধীরে ধীরে নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছেন তিনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠান কিংবা রিয়েলিটি শোয়ে গান গাওয়ার পাশাপাশি দর্শকদের আনন্দ দিতে মাঝেমধ্যে নাচের ছন্দেও পা মেলান শিল্পীরা। বলিউড-হলিউড থেকে বাংলা সংগীতের মঞ্চেও এমন দৃশ্য বেশ পরিচিত। কিন্তু গানের সঙ্গে নাচ করার কারণেই এবার কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণের মুখে পড়তে হল পৌষালীকে। তাঁর পারফরম্যান্স ঘিরে এমন মন্তব্যে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
তিনিও চুপ থাকার পাত্রী নন। নিন্দুকেরা যেমন ঢিল ছুড়েছেন তেমনই জুটেছে পৌষালীর পাটকেল। কড়া ভাষায় শালীনতা ও মানবিকতার পাঠ পড়ালেন পৌষালী। সমাজমাধ্যমে একটি লম্বাচওড়া পোস্ট শেয়ার করে সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন। পৌষালীর কথায়, ‘বেশ কিছুদিন হল অনেক কিছু দেখছি, অনেক কিছু পড়ছি এবং উপভোগ করছি। হ্যাঁ, উপভোগই করছি। খুব সচেতন ভাবেই বলছি, গ্রহণ করছি না। আমার গান, আমার শৈল্পিক পরিবেশনা নিয়ে পছন্দ বা অপছন্দ থাকতেই পারে তবে তার ঊর্ধ্বে গিয়ে যখন অপছন্দের বহিঃপ্রকাশ অপমান হয়ে ওঠে সেটাও যখন কেবল আমার উপর না থেকে হাজার হাজার নারীর দেহ, মন আর সম্মানকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় তখন কিছুটা দায়বদ্ধতা থেকে যায় বৈকি।’

পৌষালীকে যৌনপল্লীতে গিয়ে গান গাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নেটাগরিকের একাংশ। তাঁদের উদ্দেশে গায়িকার সংযোজন, ‘যদি খুব শালীনতা বজায় রেখে বিষয়টা উপস্থাপন করতে হয় তবে বিষয়টা এরকম, একটা কমেন্ট এল, ‘পৌষালী আপনি যৌনকর্মীদের পাড়ায় গিয়ে গান করুন।’ যিনি এটা লিখেছেন মনে রাখবেন তিনি একজন মহিলা। সেই নারী বোধহয় সারাদিন পারিবারিক হিংসার শিকার হন, আর তারপর সোশাল মিডিয়ায় এসে নিজের বিকৃতিকে তুলে ধরেন। এর বেশি আর কি বলতে পারি। যিনি বা যাঁরা এধরণের কথা অবলীলাক্রমে বলে এসেছেন, বলেন এবং ভবিষ্যতেও বলবেন তাদের বলছি নিজের জন্য খারাপ লাগে না, কোনও যৌনকর্মী বোন যদি কোনওদিন আমার থেকে গান শুনতে চান, তাকে বুকে জড়িয়ে ‘কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ’ আমি বারংবার শোনাবই।’
আরও একধাপ এগিয়ে পৌষালীর পরিস্কার বক্তব্য, ‘তাতে আপনাদের সতীত্বে যদি লিপ্সার আঘাত লাগে আপনারা আমায় ত্যাগ করতে পারেন। আহারে মানুষ, জীবন যাদের কিছুই দিল না তাঁদের প্রতি আক্রোশ থেকে এত পাশবিক কেন?’ কমেন্ট বক্সের আপত্তিকর মন্তব্যগুলো উল্লেখ করে জবাব দিয়েছেন। পৌষালীর পোস্ট, ‘কিছু বিষয় একটু স্পষ্ট করে দিই, ‘আমি গান গাই কম, নাচি বেশি’। উত্তর, তা বেশ করি। আপনি নাচতে পারেন না, অনুগ্রহ করে উঠোন বাঁকাবেন না। ‘খাজনার থেকে বাজনা বেশি’। উত্তর- তা বেশি বৈকি! অনুসঙ্গ এবং গীত নিয়েই তো সংগীত। অবশ্য এত বোঝার জন্য অনেককেই ডিকশনারি খুলতে হবে। ‘ইশ কি রোগা! ওরে বাবা কি মোটা হয়ে গিয়েছে।’ উত্তর- একদিন একটু ডেকে খাওয়ান তো দেখি! তারপর আপনার টা শুনব! না না! সত্যি শুনব। তার আগে আর কিছু বলার থাকলে কমেন্ট করতে থাকুন। এই যা বলার বললাম। আর লিখবও না। আর যদি ভাবেন পাত্তা পাবেন, ভাবতে থাকুন। হরে কৃষ্ণ।’
