
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পাঁচ মাসের মধ্যেই একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আসতে শুরু করেছে বলে দাবি রাজ্য সরকারের। এবার রাজ্যের বিমান পরিষেবার পরিকাঠামো আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাংলায় নতুন করে আরও চারটি বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই বিমানবন্দরগুলি তৈরির লক্ষ্যে সোমবার কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কিনজারাপু রামমোহন নাইডুর। চুক্তি স্বাক্ষরের পর রাজ্যের বিমান পরিষেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের কাজ আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজ্যে পালাবদলের পর পুরুলিয়ার ছররা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা সিভিল এনক্লেভ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কালাইকুন্ডায় এই চারটি বিমানবন্দর নতুন করে চালু করার সিদ্ধান্ত নেন বিজেপি সরকার। গোটা বাংলাকে আকাশপথে জুড়তে নেওয়া হয় উদ্যোগ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে বালুরঘাট বিমানবন্দর ঘুরে দেখেছেন। দ্রুত এই বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে প্রশাসনিক বৈঠক সেরেছেন। এমনকী রাজ্যের অন্যান্য মন্ত্রীরাও বাকি বিমানবন্দরগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। মুখ্যমন্ত্রী সেই সময়েই জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের উড়াল প্রকল্পে এই বিমানবন্দরগুলিকে চালু করা হবে। এবার তা বাস্তব হওয়ার পালা।
এই প্রসঙ্গে রবিবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, নবান্ন সভাঘরে সোমবার অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের সঙ্গে একটি মউ সাক্ষর হবে। হাসিমারা, কোচবিহার, বালুরঘাট ও হলদিয়ায় কেন্দ্রীয় উড়ান স্কিমে বিমানবন্দর তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, কলকাতা-ইউরোপ সরাসরি বিমান ফেরানোর আবেদন রামমোহন নাইডুকে জানানো হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, কেন্দ্রের রিজিওনাল কানেকটিভিটি স্কিমের অধীনে চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রয়োজনীয় জমি, সংযোগকারী রাস্তা, বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ এবং প্রাথমিক নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে। অন্যদিকে কেন্দ্র বিমানবন্দরের মূল পরিকাঠামো নির্মাণ করবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রের উড়ান প্রকল্পের আওতায় এই চার বিমানবন্দর চালু হয়ে গেলে ৭২ আসন বিশিষ্ট বিমান চলাচল করবে। এর ফলে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। শুধু তাই নয়, শিল্পায়নেও গতি আসবে বলেও মত। শুধু তাই নয়, গোটা দেশের বিমান নেটওয়ার্কের সঙ্গেও বাংলাজুড়ে যাবে বলেও আশা।
