
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নোটিস দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর কাছেও জবাব তলব করেছে শীর্ষ আদালত। তবে জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করার যে আবেদন করা হয়েছিল, তা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। এসআইআর প্রক্রিয়ায় ৬ নম্বর ফর্মে পরিবর্তন কে বা কারা করেছে, সেই প্রশ্নের জবাব চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল কি না, তাও স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। এই বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ দুই নির্বাচন কমিশনারের কাছেই জবাব তলব করেছে আদালত।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সদ্য প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ওঠে। দাবি করা হয়, বাকি দুই কমিশনারের আপত্তিতে আমল না দিয়ে একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ভোটারের নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬-এ বিশেষ বদল করা হয়। যা জানতেন না বাকি দু’জন। সংবাদপত্রের ওই প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করে সম্প্রতি মামলা দায়ের হয়েছিল শীর্ষ আদালতে। সোমবার এই মামলার শুনানি করেন বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনার বেঞ্চ। আবেদনকারী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠি, রাকেশ কুমার সিং এবং সুধাকর সিং-এর আবেদন ছিল, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনে যে সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হোক। সিদ্ধান্ত যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে না নেওয়া হয় তবে তা বাতিল করা হোক। পাশাপাশি সাসপেন্ড করা হোক মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। একইসঙ্গে তিনি যে রক্ষাকবচ পান সেটাও বাতিলের দাবি করা হয়।
মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী বিকাশ সিংয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ, “কোনও সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ১০০ শতাংশ ঠিকও হতে পারে, আবার আংশিক ঠিকও হতে পারে, আবার ভুলও হতে পারে। আমরা এর ভিত্তিতে কোনও নির্দেশ দিতে পারি না। আমরা অবশ্যই তাদের (কমিশনের) জবাব চাইব। যদি আমরা দেখি যে কোনও ক্ষেত্রে আইন মানা হয়নি, তাহলে আমরা তা বাতিল করে দিতে পারি।” পাশাপাশি বলা হয়, “নির্বাচন কমিশন কোনও সিদ্ধান্ত নিলে তা সর্বসম্মতিতে বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই নেবে। সেই নীতি পালন করা হয়েছিল কিনা, না কি একতরফা ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে? আমরা এই বিষয়ে জবাব তলব করছি।” এছাড়া কার নির্দেশে ফর্ম ৬-এ বদল আনা হয়েছিল তা কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করার আর্জি স্পষ্ট ভাষায় খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, শুধুমাত্র সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। ফলে সাসপেন্ড করার কোনও যুক্তি নেই। আমরা এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও বাকি ২ কমিশনারের কাছে জবাব তলব করছি।
