
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাত পোহালেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। তার আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও স্বস্তি বজায় রইল। এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট তাঁর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানির পর আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আপাতত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন মিলন প্রধান। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামে ভোটপর্ব যাতে শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করার বিষয়ে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। নির্বাচন মিটে যাওয়ার পর মামলাটি নিয়ে ফের শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ফলে ভোটের আগের দিন শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশে আপাতত স্বস্তিতে কংগ্রেস প্রার্থী।
এদিন মামলার শুনানিতে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। আদালতে তিনি বলেন, মিলনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমনকী খুন, বোমা ছোড়ার মতো অভিযোগও রয়েছে। ফলে অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন খারিজের আবেদন জানান তুষার মেহতা। যদিও তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন মিলনের আইনজীবী। তবে এদিন দীর্ঘ সওয়াল-জবাবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ”২০০৭ সালের ঘটনা এটি। জমি সংক্রান্ত বিবাদ। ৬৬ জনের বিরুদ্ধে একসঙ্গে অভিযোগ হয়েছিল।” কিন্তু এতদিন কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। শুধু তাই নয়, জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলেও কেন পুলিশ এতদিন ব্যবস্থা নেয়নি তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। এক্ষেত্রে পুলিশের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ বলে কড়া পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের।
অন্যদিকে এদিন ‘সুপ্রিম’ রায়কে স্বাগত জানিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, ”আমাদের প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন বাতিলের যে অপচেষ্টা করেছিল, আজ মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এই রায়কে আমরা স্বাগত জানাই।” তাঁর কথায়, সুপ্রিম কোর্ট মিলন প্রধানকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দিয়েছে। এটি গণতন্ত্রের জয়, এটি সমগ্র নন্দীগ্রামবাসীর জয়। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাজ্য সরকারকেও আক্রমণ শানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তিনি বলেন, ”রাজ্য সরকার চেষ্টা চালাচ্ছিল যেভাবেই হোক, আজ মিলনের অন্তর্বর্তী জামিন বাতিল করিয়ে তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করানোর। কিন্তু সেই চক্রান্ত নস্যাৎ হয়ে গিয়েছে।”
