
শ্যামনগর, ২০ নভেম্বর : চলন্ত লোকাল ট্রেনের কাপলিং খুলে বিপত্তি শ্যামনগর স্টেশনে। রবিবার বিকেলে শ্যামনগর স্টেশন ছাড়তেই দু’ভাগে আলাদা হয়ে গেল কৃষ্ণনগর-শিয়ালদহ লোকাল। সামনের চারটি বগি নিয়ে দৌড়য় ট্রেন। ঘটনার জেরে শিয়ালদহ নৈহাটি শাখায় ২ নম্বর লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই ঘটনায়কোনও হতাহতের খবর নেই। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে রক্ষনাবেক্ষণের পদ্ধতি নিয়ে । লোকাল ট্রেনের কাপলিং খুলে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রেল বিশেষজ্ঞরা।
জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেলে তখন পৌনে পাঁচটা। শ্যামনগর স্টেশন ছেড়ে বেরোচ্ছে ডাউন কৃষ্ণনগর লোকাল। তখনই খুলে যায় ২টি কামরা মধ্যের কাপলিং। দাঁড়িয়ে পড়ে ট্রেন। যাত্রীরা বিষয়টি বুঝতে পারা মাত্রই প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ভয়ে হুড়োহুড়ি করে মাঝপথে ট্রেন থেকে নেমে পড়েন। কেউ আবার কী করবেন বুঝতে না পেরে বসে থাকেন ট্রেনে। তার পর থেকে ওই লাইনে বন্ধ রয়েছে ট্রেন চলাচল। রেকটি নারকেবডাঙা কারশেডে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় বলে সূত্রের খবর।
এদিকে রেল আধিকারিকরা বিষয়টি জানামাত্রই শুরু হয় মেরামতির কাজ। কামরাগুলি জুড়তে বেশ খানিকটা সময় লাগে। যার জেরে দীর্ঘক্ষণ আপ লাইনে ব্যহত হয় ট্রেন পরিষেবা। চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা। তবে এদিকে ডাউন লাইনে ট্রেন চালানো হয়। দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে ডিআরএম সিং জানান, “তদন্ত শুরু হয়েছে। রিপোর্ট দিলেই জানা যাবে প্রকৃত কারণ কী। কেন ঘটল এই দুর্ঘটনা।
এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে রক্ষনাবেক্ষণের পদ্ধতি নিয়েও। এ বিষয়ে রক্ষনাবেক্ষনের ত্রুটিকে প্রাধান্য দিচ্ছেন না ইঞ্জিনিয়াররা। তাঁদের একাংশের মতে, নতুন কাপলিং আনার পর তাতে বিশেষ পদ্ধতিতে টান দিয়ে ক্ষমতা পরীক্ষা করার নিয়ম থাকলেও তা হয় না, যার ফলে ঘটে এধরণের বিপত্তি।
এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন রেল বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দূরপাল্লার ট্রেন থেকে নানা কারণে ঘন ঘন কামরা খুলতে হয়। ফলে তার কাপলিং লাগানোয় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু লোকাল ট্রেনের কাপলিং খোলা হয় কদাচিৎ। সেই কাপলিং যদি চলন্ত অবস্থায় খুলে যায় তাহলে এর পিছনে বড়সড় গাফিলতি থাকতে পারে। আপাতত রেকটিকে জুড়ে শিয়ালদায় আনার চেষ্টা হচ্ছে। রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় এই ঘটনার খুব বেশি প্রভাব পড়েনি। তবে কাজের দিনে এই কাণ্ড হলে ভুগতে হত নিত্যযাত্রীদের।
