
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বর্তমান সময়ে বহু নারীই হরমোনের অসামঞ্জস্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন। কখনও আচমকা মুড পরিবর্তন, কখনও অনিদ্রা, আবার কখনও অকারণে ওজন বৃদ্ধি বা চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অনেকের ক্ষেত্রে ত্বকে ব্রণ, র্যাশ কিংবা শরীরের বিভিন্ন অংশে অবাঞ্ছিত লোম গজানোর সমস্যাও তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমোনের ওঠানামা দীর্ঘমেয়াদে সন্তানধারণের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি করতে পারে।
তবে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে সবসময় ওষুধের উপর নির্ভর করতে হবে, এমন নয়। চিকিৎসকদের একাংশের মতে, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে অনেক ক্ষেত্রেই হরমোনের ভারসাম্য স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক খাবার রাখাই সবচেয়ে জরুরি। যেমন—
১। ফ্ল্যাক্স সিড বা তিসি: নারীশরীরে ইসট্রোজেন ক্ষরণ বাড়ায়। এতে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ও ফাইবার থাকে। ফলে হজমে সাহায্য হয়। ফ্ল্যাক্স সিড গুঁড়ো করে নেওয়া যেতে পারে। তারপর টক দই, ওটস, অথবা বাড়িতে হাতরুটি বানানোর সময় মিশিয়ে দেওয়া যায় এক টেবিলচামচ পরিমাণ।
২। সবুজ শাক-সবজি: নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকের উচিত খাবারের পাতে যতটা সম্ভব সবুজ শাক সবজি রাখা। পিরিয়ডসের আগে যেসব নারীদের ঘুমের সমস্যা হয়, শরীর অকারণই ক্লান্ত লাগতে থাকে, তাদের জন্য এই খাবার বিশেষ কার্যকরী। সবুজ সবজিতে ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফাইবার থাকে। ফলে অনাক্রম্যতা বাড়ে।
৩। ড্রাই ফ্রুট ও বীজ: কাজু-আমন্ড-আখরোট থেকে পাওয়া যায় হেলদি ফ্যাট, প্রোটিন ও খনিজ উপাদান। এর ফলে স্বাভাবিক নিয়মে হরমোন ক্ষরণ হয়। থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের সুস্থতা বজায় থাকে। তবে একই রকম জরুরি কুমড়ো এবং সূর্যমুখী ফুলের বীজ। কুমড়োর বিজে থাকা জিঙ্ক ত্বককে কোমল করে, অন্যদিকে সূর্যমুখীর বীজ প্রোজেস্টেরন হরমোনের ক্ষরণ বাড়ায়।
৪। টক দই: এতে থাকে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম। রোজের খাবারের পাতেই রাখা যায়। মেটাবোলিজম বৃদ্ধি পায়, হরমোন ক্ষরণেও ভারসাম্য আসে।
৫। ডাল ও শুঁটি জাতীয় খাবার: হরমোন ক্ষরণ স্বাভাবিক করতে ডালের জুড়ি মেলা ভার। একইরকম গুরুত্বপূর্ণ মটরশুঁটি, অঙ্কুরিত ছোলা প্রভৃতি। প্রভূত পরিমাণে ফাইবার ও প্রোটিন থাকায়, মেদ ঝরাতেও সাহায্য করে এইসব খাবার। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, নারীদের দৈহিক ওজন বেড়ে গিয়েছে। পিরিয়ডস অনিয়মিত হয়েছে। মেদ ঝরাতে সক্ষম হলে, অন্যান্য সমস্যাও স্বাভাবিক হয়ে আসে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই।
অন্যদিকে অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, সফট ড্রিঙ্ক, অতিরিক্ত চিনি বা তেল-মশলাযুক্ত খাবার শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে হরমোনজনিত নানা সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব— এমনটাই মত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।
