
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দেশজুড়ে ক্রমশ বাড়ছে গরমের তীব্রতা। অনেক জায়গাতেই পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে বা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে শুধুমাত্র তাপমাত্রা নয়, এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাতাসের আর্দ্রতাও। আর এই তাপ ও আর্দ্রতার যুগপৎ প্রভাবকেই বলা হচ্ছে ‘ময়েস্ট হিট’, যা সাধারণ গরমের তুলনায় অনেক বেশি অস্বস্তিকর এবং বিপজ্জনক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আবহাওয়ায় ঘাম ঠিকমতো শুকোয় না। ফলে শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং শরীর দ্রুত অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠে। এর ফলেই দেখা দিতে পারে হিট স্ট্রেস, প্রবল ক্লান্তি এমনকি হিট স্ট্রোকের মতো গুরুতর সমস্যা। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে এই ‘ময়েস্ট হিট’-এর প্রভাব আরও বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০০০ সালের পর থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে এই ঝুঁকি বেড়েছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। ভবিষ্যতে এর প্রভাব কর্মক্ষমতার উপরও পড়তে পারে—অনেক ক্ষেত্রে কাজের ক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কী করবেন? চিকিৎসকরা বলছেন, আগাম সতর্কতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। অপ্রয়োজনে রোদে বেরোনো এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত জল পান করা এবং মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা, ছায়াযুক্ত স্থানে থাকা এবং শরীর ঠান্ডা রাখার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে, শুধু তাপমাত্রা নয়—আর্দ্রতার বাড়বাড়ন্তও যে গরমকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে, তা বুঝে সতর্ক থাকাই এখন সময়ের দাবি।
