
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নবান্ন থেকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলও। প্রশাসনিক স্তরে মুখ্যসচিব ও অর্থসচিবের নেতৃত্বে জেলাশাসক, বিডিও ও পুর কমিশনাররা এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি আধার সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও পুরো প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে মু্খ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, ৩০ লক্ষ ভুয়ো অ্যাকাউন্টে ঢুকছিল টাকা। শুধু অনুপ্রবেশকারীই নন, বহু পুরুষের অ্যাকাউন্টেও নাকি ঢুকছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার! এদিন মুখ্যমন্ত্রী সাফ বললেন, “শুধু রাষ্ট্রবাদী ভারতীয় মহিলারাই পাবেন এই টাকা, কোনও রাকিবুল নন।”
একুশের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে বাংলার মা-বোনেদের জন্য লক্ষ্মীরভাণ্ডার প্রকল্প চালু করবেন তিনি। তাতে মাসে একটা নির্দিষ্ট অর্থ পাবেন তাঁরা। নির্বাচনে জেতার পরই কথা রেখেছিলেন তিনি। চালু হয়েছিল প্রকল্প। কিন্তু বারবার অভিযোগ উঠেছে বহু ভুয়ো আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে ঢুকছে টাকা। ফলে বঞ্চিত হচ্ছেন আদতে যাদের পাওয়ার কথা তাঁরা। একাধিকবার প্রকাশ্যে এসেছে, বহু মৃত ও পুরুষের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে টাকা। বুধবার পরিসংখ্যান তুলে ধরে শুভেন্দু দাবি করলেন, ৩০ লক্ষ অবৈধভাবে পাচ্ছিলেন এই প্রকল্পের সুবিধা। তবে আর তা হবে না।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, অভারতীয়, পুরুষ-যাদের অ্যাকাউন্টে এত দিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে টাকা ঢুকত, তাঁদের নাম এবার বাদ পড়বে। ঝাড়াই-বাছাইয়ের সুবিধার জন্য নতুন করে ফর্ম পূরণের প্রক্রিয়াটি রাখা হয়েছে।আগামীতে শুধু বৈধ নাগরিকরাই (মহিলা) অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন। জানা যাচ্ছে, আজ অর্থাৎ ২৭ তারিখ থেকেই মিলবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম। আগামী ২ জুনের মধ্যে যারা ফর্ম ফিলআপ করতে পারবেন। তাঁরা ৩ তারিখ থেকে টাকা পাবেন। তবে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চলবে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকলেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে। তবে অভারতীয়, আয়কর দেন, সরকারি বা সরকার পোষিত কোনও 1.চাকরি করেন যারা, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না।
2.একদিনে সকলে ফর্ম ফিলআপ করতে পারবেন না।
3.আমাদের সরকার অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দিতে চায়। আবার নানাবিধ স্কিমে যুক্ত করতে চাই।
4.আয়ুষ্মান ভারতের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন, পোর্টালে নাম নথিভুক্তকরণের কাজ শুরু করেছি। জুলাইতে সম্ভবত কার্ড দিতে পারব। যতক্ষণ না আয়ুষ্মান ভারতের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, ততক্ষণ স্বাস্থ্য়সাথী থেকে কেউ বঞ্চিত হবেন না।
5.তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই। সকলেই পাবেন। এখন ২ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা পান। বেআইনিভাবে ৩০ লক্ষের মতো মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান।
6.অন্নপূর্ণা যোজনা চালু না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চলবে।
7.আগামী ২ জুনের মধ্যে ফর্ম ফিলআপ করতে পারবেন। তাঁরা ৩ তারিখ থেকে টাকা পাবেন।
8.অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকলেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে।
তাড়াহুড়ো করতে হবে না। সকলেই পাবেন।
9.অভারতীয়, আয়কর দেন, সরকারি বা সরকার পোষিত কোনও চাকরি করলে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না।
10.আপাতত ১ জুন থেকে আগামী ৯০ দিন এই প্রক্রিয়া চলবে। অনলাইন ও অফলাইনে হবে।
11.বিডিও ও পৌরসভা, ওয়ার্ডভিত্তিক, পঞ্চায়েত থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হবে ফর্ম ফিলআপের কাজ।
