
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে সরকার বদলের পর কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বাংলার বঞ্চনার অভিযোগ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। আয়ুষ্মান ভারত ও জল জীবন মিশনের মতো প্রকল্প রাজ্যে চালুর পর এবার স্বচ্ছ ভারত মিশনেও যুক্ত করা হচ্ছে একাধিক শহর। ফলে কেন্দ্রীয় সুবিধা দ্রুত রাজ্যে কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার দিল্লিতে স্বচ্ছ ভারত মিশন সংক্রান্ত একটি বৈঠক ডেকেছিলেন কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টার। বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বাংলার তরফে ওই বৈঠকে যোগ দেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। ১০ বছর পর এই ধরনের কোনও বৈঠকে যোগ দিলেন বাংলার কোনও মন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি জানান, “আগের সরকারের আমলে আমরা স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পে সেভাবে কাজ করতে পারিনি। অন্য রাজ্যগুলি এত ভালো কাজ করছে। মাত্র ১৬ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে।”
বৈঠক শেষে অগ্নিমিত্রা বলেন, “বাংলার চার শহরে প্রাথমিকভাবে স্বচ্ছ ভারতের মাধ্যমে একাধিক পাইলট প্রজেক্ট শুরু হচ্ছে। স্বচ্ছ্ব ভারতের অধীনে প্রায় ২০০ কোটির প্রকল্প আমরা পাচ্ছি। মন্ত্রী আমাদের স্পষ্ট করে দিয়েছেন, স্বচ্ছ ভারতের অধীনে আমরা প্রকল্প নিয়ে যেতে পারলেই টাকা পয়সার কোনও অসুবিধা হতে পারে না।” মন্ত্রী জানিয়েছেন, “দুর্গাপুর-আসানসোল, কালিম্পং এবং দার্জিলিংকে প্রাথমিকভাবে স্বচ্ছ ভারতের অধীনে পাইলট প্রজেক্টের অংশ হিসাবে কাজ করা হবে।” অগ্নিমিত্রা বলেন, প্রতিটি শহরে পরিচ্ছন্নতায় জোর দেওয়া হবে। শুধু মূল রাস্তাগুলি নয়, অলিগলির ভিতর সর্বত্র পরিচ্ছন্নতায় জোর দেওয়া হবে। ওই চার শহরকে প্লাস্টিকমুক্ত করা হবে।” মন্ত্রীর দাওয়ায়, শুধু পরিচ্ছন্নতা নয়, ময়লা-আবর্জনা এখন নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। সেগুলিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষেই কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টার বাংলায় আসবেন।
উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পরই স্বচ্ছতায় জোর দিচ্ছে বিজেপি সরকার। এমনকী শিয়ালদহ, হাওড়ার মতো বড় স্টেশনের আশেপাশে বুলডোজার চালিয়ে হকার উচ্ছেদ হয়েছে পরিচ্ছন্নতার স্বার্থে। এবার স্বচ্ছ ভারতেও যোগ দিচ্ছে বাংলা। আপাতত চার শহরকে স্বচ্ছ করার টার্গেট নিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। এক্ষেত্রে সচেতনায় জোর দিচ্ছেন মন্ত্রী। স্কুলস্তরেও স্বচ্ছ ভারত নিয়ে পাঠক্রম চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
