
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে রাজ্যের বাজেট অধিবেশন। ২২ জুন রাজ্য বাজেট পেশ করা হবে। বিধানসভায় প্রচলিত নিয়ম মেনেই রাজ্যপালের ভাষণের মাধ্যমে অধিবেশনের সূচনা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুকে রাজ্যপালের সঙ্গে আলোচনা সেরে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিধানসভায় গিয়ে বাজেট অধিবেশন, বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠকও করেন মুখ্যমন্ত্রী।
জানা গিয়েছে, বুধবার সকালেই রাজ্যপালের সঙ্গে এনিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রীরও। তাঁর সঙ্গেই অধ্যক্ষ রাজভবনে গিয়ে বাজেট প্রসঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা সেরে নিতে পারেন। সরকার গঠনের পর এটাই বিজেপির প্রথম বাজেট। যেখানে থাকতে পারে একাধিক চমক। সরকারে এসে একাধিক প্রতিশ্রুতি পূরণ বাজেটের মধ্যে দিয়ে করতে পারে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার।
সামনেই ভোট থাকায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তবর্তীকালীন বাজেট পেশ করেছিল তৎকালীন তৃণমূল। সেখানে যুবসাথীর মতো বেশ কিছু বড় ঘোষণা করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এখন মসনদে নতুন দল, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কুর্সিতে বসার পরই একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। যা আমজনতার মন যে কেড়েছে তা বলাই বাহুল্য। আগামীতে পূর্ণাঙ্গ বাজেটে রাজ্যবাসীকে কী উপহার দেয় শুভেন্দুর সরকার, সেদিকেই তাকিয়ে বাংলার মানুষ।
রাজ্যের ক্ষমতায় এসেই মদের দোকানগুলির অবস্থান নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ করল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। স্কুল, কলেজ-সহ অন্য কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মন্দিরের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনও মদের দোকান থাকবে না। প্রশাসনিক বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্তের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। স্কুল-কলেজ লাগোয়া যেসব দোকান ইতিমধ্যেই রয়েছে, সেগুলো কি তবে ভাঙা পড়বে? এনিয়ে অবশ্য এখনও কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। তবে নতুন করে যেসব মদের দোকান হবে, স্কুল, কলেজ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব না হলে তাদের লাইসেন্স দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
যত্রতত্র মদের দোকান নিয়ে নানা জায়গায় স্থানীয় মানুষজনের বিক্ষোভ ছিল। কখনও রাস্তার উপর মদের দোকানগুলিতে সুরাপ্রেমীদের দীর্ঘ লাইনের জেরে চলাচলে অসুবিধা, কখনও দোকানের জন্য স্থানীয় পরিবেশ নষ্টের অভিযোগ উঠেছিল অহরহ। তার মধ্যে কিছু কিছু দোকান লাইসেন্সবিহীন বলেও অভিযোগ ওঠে। কোথাও আবার মন্দির সংলগ্ন এলাকায় সুরার দোকান বিতর্কের পরিবেশ তৈরি হয়। এবার রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এসব নিয়ে কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাফ জানিয়ে দিলেন, “আমরা বলেছি, স্কুল-কলেজ, মন্দিরের এক কিলোমিটারের মধ্যে মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। এ সরকার অন্যভাবে চলবে। এতদিন শাসকের আইন ছিল, এবার থেকে আইনের শাসন হবে।”
নতুন সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলে। এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে এই উদ্যোগ জরুরি ছিল বলে মানছেন তাঁরা। সেইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, ইতিমধ্যে যেসব মদের দোকান স্কুল, কলেজ বা মন্দিরের আশপাশে আছে, তাদের ভেঙে ফেলা হবে? আসলে রাজ্যের ক্ষমতায় এসেই বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে ‘বুলডোজার অপারেশন’ শুরু করেছে বিজেপি সরকার। তাই লাইসেন্সহীন মদের দোকানগুলিরও একই পরিণতি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
