
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মঙ্গলবারের পর বৃহস্পতিবার ফের নদিয়া জেলা সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দু’দিন আগেই নদিয়ার কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন তিনি। এ বার তিনি গেলেন মায়াপুর ইস্কনে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে এই প্রথম বার মায়াপুর ইস্কনে গেলেন শুভেন্দু।
ইসকনের মন্দিরে বিশেষ যজ্ঞানুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। এরপর ইসকনের গোশালায় বিশেষ পুজোয় বসেন মুখ্যমন্ত্রী। ইসকনের সন্ন্যাসীদের উপস্থিতিতে তিনি গো-সেবা করেন। জল দিয়ে গোমাতার পা ধুয়ে দেন তিনি। গোমাতাকে খাবারও খাওয়ান। গোশালা থেকে ইসকনের চন্দ্রোদয় মন্দিরে যান শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে রাধাকৃষ্ণের মন্দিরে পুজো ও আরতি করেন তিনি। এরপর বিগ্রহকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন মুখ্যমন্ত্রী। মন্দিরেই ভক্তদের মাঝে মিশে গিয়ে তাঁদের জড়িয়ে ধরেন শুভেন্দু। করেন শুভেচ্ছা বিনিময়ও। এরপর ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের মন্দিরেও পুজো করেন তিনি। সেখানেও প্রভুপাদর বিগ্রহের সামনে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথমবার মায়াপুর সফরে শুভেন্দু অধিকারী। এই সফরকে ঘিরে গতকাল থেকে মায়াপুরে ছিল সাজ সাজ রব। কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে রাখা হয়েছে গোটা ইসকন চত্বর। আজ সকালে মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে আকাশপথে মায়াপুরে পৌঁছন। তারপর সেখান থেকে ইসকনের গোশালায় গিয়ে বিশেষ পুজো করেন তিনি। যজ্ঞের পর তাঁকে সাষ্টাঙ্গে বিগ্রহকে প্রণাম করতে দেখা গিয়েছে। এরপরে গো-সেবা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
ইস্কন মুখপাত্র রসিক গৌরাঙ্গ দাস বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী এই প্রথম বারের মতো ইস্কনে এসেছেন। উনি গোপীজন গো-সেবা ও যজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছেন। এরপর মতবিনিময়ের একটি অনুষ্ঠান আছে। ইস্কনের ব্যাপারে উনি যথেষ্ট আগ্রহী এবং উৎসাহী।”
গোশালার অনুষ্ঠান শেষ করে চন্দ্রোদয় মন্দিরের উদ্দেশে রওনা দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে পৌঁছে প্রথমে রাধামাধবের পুজো করেন। এরপর প্রভুপাদর মন্দিরে পুজো করেন। ভক্তদের মাঝে মিশে যান শুভেন্দু। এদিন মায়াপুরের সাধু-সন্তদের সঙ্গেও দেখা করে কথা বলতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। মায়াপুর ইসকনের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য কৃষ্ণ প্রসাদের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ইসকনের তরফে একটি গরুর মূর্তি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে উপহার হিসেবে প্রদান করা হবে।
