
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গ্রীষ্মকাল মানেই রসালো পাকা আমের মরশুম। বাজারে এখন হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোপালভোগ থেকে শুরু করে নানা জাতের আমের রমরমা। তাই গৃহস্থের থালাতেও সকাল-সন্ধ্যা জায়গা করে নিয়েছে এই সুস্বাদু ফল। কেউ মুড়ির সঙ্গে খাচ্ছেন, কেউ আবার শরবত বানিয়ে কিংবা এমনি এমনিই চেটেপুটে উপভোগ করছেন পাকা আমের স্বাদ।
স্বাদে অতুলনীয় হলেও পাকা আম শুধু জিভের আনন্দই দেয় না, শরীরের পক্ষেও অত্যন্ত উপকারী। পুষ্টিবিদদের মতে, আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম ও কপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ। এই উপাদানগুলি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং ত্বক ও চোখের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে। তাই আজকের প্রতিবেদনে জেনে নিন স্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনে পাকা আমের ভূমিকা।
∆ ত্বকে খেলবে উজ্জ্বলতা—
প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট থাকে বলে ভরপুর এনার্জি পাওয়া যায় এই ফল থেকে। ফাইবার রয়েছে বলে হজমক্ষমতা বাড়ে। একই সঙ্গে কমে সুগার ক্রেভিং। যদি জীবনধারা থেকে চিনিতে ভরা কৃত্রিম পানীয় ও মিষ্টি জাতীয় খাবার পুরোপুরি বাদ পড়ে যায়, তবে শরীর তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফেরত পাবেই।
∆ হজম ভালো হলেই তা প্রতিফলিত হবে চেহারায়—
দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ আমে থাকা ফাইবার পুরোদমে কাজ শুরু করবে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা একেবারেই থাকবে না। এক কাপ জল খেলে যে পরিমাণ আর্দ্রতা পায় শরীর, পাকা আমে পাবে তার চাইতেও বেশি। ভিতর থেকে হাইড্রেট হওয়ার সুযোগ পাবে ত্বকও।

∆ কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করবে—
আমের বিবিধ ভিটামিন শরীরকে সতেজ করে তুলবে। তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। ভিটামিন সি থাকায় কোলাজেন বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। ফলে যাদের দেহে স্বাভাবিকভাবে কোলাজেন উৎপাদনের পরিমাণ সীমিত, তাদের ক্ষেত্রে কাজে দেবে এই ফল।
আম কীসের সঙ্গে খাওয়া হচ্ছে, তার উপরেও নির্ভর করে এর গুণাবলি। আম খাওয়ার পাশাপাশি পাতে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রোটিন ও ফ্যাট থাকে, সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। ডিম, দুধ-জাতীয় খাবার, বাদাম— সব নিয়েই ‘ব্যালেন্সড ডায়েট’ তৈরি করা সম্ভব। এই গরমে তাই স্বাদ আর স্বাস্থ্যের যুগলবন্দি উপভোগ করতে পাতে রাখতে পারেন পাকা আম। তবে অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে।
