International

2 years ago

Vladimir Putin:প্রিগোশিনের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যে যেভাবে আঘাত হানছেন পুতিন

Vladimir Putin
Vladimir Putin

 

দুরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্কঃভাগনার যোদ্ধারা যখন রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মস্কো অভিমুখে যাত্রা করেন, সে সময় রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এফএসবি) সদস্যরা সেন্ট পিটার্সবার্গে বাহিনীটির প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোশিনের প্রধান কার্যালয়ে ঢুকে সবকিছু তছনছ করেন।

মুখোশধারী ব্যক্তিরা প্রিগোশিনের প্রতিষ্ঠান প্যাট্রিয়ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয় থেকে কম্পিউটার ও নথিপত্র জব্দ করে নিয়ে যায়। এটা প্রিগোশিনের নিয়ন্ত্রণাধীন তথ্য সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিদেশি রাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। 

প্যাট্রিয়ট গ্রুপের অনলাইন আউটলেট রিয়া ফান-এর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘ওরা (নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য) সদর দরজা ভেঙে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে। মনে হচ্ছিল, এটা দেশপ্রেমিক সাংবাদিকের কর্মস্থল নয়, বরং ওরা অবৈধ কোনো পতিতালয় ধ্বংস করতে এসেছে।’

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন গত মাসের শেষের দিকে। এ সময় হঠাৎ করে রাশিয়ার সেনা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসে ভাড়াটে সেনা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভাগনার। ইয়েভগেনি প্রিগোশিনের নেতৃত্বাধীন ভাগনার ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সহায়তা দিয়ে আসছিল।

প্যাট্রিয়টের বেশ কয়েকজন সদস্য গত ২৪ জুনের এই ঘটনা ‘গার্ডিয়ান’–এর কাছে বর্ণনা করেছেন। এর আগের দিন অর্থাৎ ২৩ জুন বিদ্রোহ করেছিলেন প্রিগোশিন। এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলে যে প্রিগোশিনের বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য দমন করার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে ক্রেমলিন। কেননা, প্রেসিডেন্ট পুতিনের ২৩ বছরের শাসনামলকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেন প্রিগোশিন।  

তিন দশকের বেশি সময় ধরে প্রিগোশিন বিশ্বের অন্যতম রহস্যময় ও জটিল একটি করপোরেট কাঠামো তৈরি করেছেন। শুধু ভাড়াটে সেনা সরবরাহ নয়, একাধারে সংবাদমাধ্যম, খনি, লজিস্টিক, চলচ্চিত্র, ক্যাটারিংসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন তিনি।

রাশিয়ায় একসময় পুতিনের বাবুর্চি হিসেবে পরিচিত ছিলেন প্রিগোশিন। সেখান থেকে তিনি ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। পুতিনের আনুকূল্যে এত দিন ধরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে তাঁর এই সাম্রাজ্য। কিন্তু সময় বদলেছে। পুতিনের ক্ষমতা চ্যালেঞ্জ করে এখন চক্ষুশূল হয়েছেন প্রিগোশিন। তাই তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের লাগাম টানতে রুশ রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিদ্রোহের পর পুতিন ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রিগোশিনের করপোরেট সাম্রাজ্যের অর্থের উৎস তদন্ত করে দেখা হবে। সেনাদের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় পুতিন বলেছেন, ভাগনারে অর্থায়ন ছাড়াও প্রিগোশিনের ক্যাটারিং কোম্পানি কনকর্ড সামরিক চুক্তির আওতায় ২০২২ সালের মে থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত প্রায় ২০০ কোটি ডলার পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘কেউ চুরি করেনি বা বেশি চুরি করেনি। তবে আমরা এটা খতিয়ে দেখব।’



You might also like!