
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ধরা হয়েছে ৭.৫, যা যথেষ্ট শক্তিশালী বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভূমিকম্পের পরপরই সতর্কতা জারি করা হয়েছে দেশের উত্তর-পূর্ব উপকূল জুড়ে। সম্ভাব্য বিপদের কথা মাথায় রেখে জাপান আবহাওয়া সংস্থা সুনামি সতর্কতা ঘোষণা করেছে। প্রাথমিকভাবে এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনও নির্দিষ্ট তথ্য সামনে আসেনি। তবে কম্পনের জেরে একাধিক এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক মানুষ ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। ভূমিকম্পের অভিঘাতে ব্যাহত হয়েছে পরিবহন পরিষেবা—রেল, সড়ক এবং কিছু ক্ষেত্রে বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এই শক্তিশালী কম্পনের পর ফের একবার মনে পড়ে যাচ্ছে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়-এর স্মৃতি। ২০১১ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির জেরে সেই বিপর্যয় গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ফলে এবারের ঘটনাতেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন দুর্যোগ মোকাবিলা বিশেষজ্ঞরা।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার সকালে জোরাল ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূল। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল প্রশান্ত মহাসাগরের ১০ কিলোমিটার গভীরে। তারপরই সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। সূত্রের খবর, ভূমিকম্পের পরই সুমদ্র উত্তাল হতে শুরু করেছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলি ইতিমধ্যেই ফাঁকা করতে শুরু করেছে জাপানের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। ইওয়াটে, আওমোরি এবং হোক্কাইডোর মতো উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে সুনামির ঢেউ ৩ মিটার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জাপানের পরমাণু কেন্দ্রগুলিতেও। ভমিকম্পে এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি, উপকূল থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে জাপানের তোহোকু এলাকার প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূল থেকে বেশ কিছুটা দূরে তৈরি হওয়া ভূমিকম্পের কারণে সুনামি আছড়ে পড়েছিল ফুকুশিমায়। যার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল স্থানীয় তিনটি পরমাণু চুল্লি। এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তেজস্ক্রিয় কণা। চের্নোবিল কাণ্ডের পর ফুকুশিমার ঘটনাই সবচেয়ে ভয়াবহ পরমাণু-বিপর্যয়। ওই ঘটনার পরেই সবক’টি অর্থাৎ ৫৪টি পরমাণু চুল্লিই বন্ধ করে দিয়েছিল জাপান সরকার। পরবর্তীকালে দেশে জ্বালানির চাহিদা মেটাতে বেশ কয়েকটি চুল্লি চালু করা হয়।
