
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতীয় রান্নায় মশলার ব্যবহারই স্বাদের আসল চাবিকাঠি। গরম মশলা থেকে শুরু করে জিরে, ধনে—সব কিছুর পাশাপাশি আদা-রসুনের পেস্ট প্রায় প্রতিটি পদেই অপরিহার্য। এই সাধারণ উপাদানটিই তরকারি, ডাল কিংবা মাংসের স্বাদকে এক ধাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে অনেকেই একসঙ্গে বেশি করে আদা-রসুন বেটে বা পিষে রেখে দেন। কিন্তু সমস্যার শুরু হয় কয়েক দিনের মধ্যেই। পেস্টের রং সবুজাভ বা কালচে হয়ে যায়, গন্ধ কমে আসে, আর স্বাদেও পড়ে প্রভাব। ফলে রান্নার মান নষ্ট হয়। তবে সঠিক পদ্ধতি মেনে চললে দীর্ঘদিন আদা-রসুনের পেস্ট সতেজ রাখা সম্ভব।
∆ কীভাবে সংরক্ষণ করবেন?
১. পিষে নেওয়ার সময় এই ভুল করবেন না: আদা এবং রসুন আর্দ্রতার কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়, তাই পেস্ট তৈরির আগে আদা ভালভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। খোসা ছাড়ানোর পর, আদা এবং রসুনকে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিন যাতে এক ফোঁটাও জল না থাকে। আদা এবং রসুন পিষে রাখার সময় কখনও জল যোগ করবেন না। জলের পরিবর্তে তেল ব্যবহার করতে পারেন।
২. লবণ এবং তেলের মিশ্রণ: লবণ এবং তেল প্রাকৃতিক সংরক্ষণকারী হিসেবে কাজ করে। পেষার সময়, এক চা চামচ লবণ এবং ২-৩ চা চামচ সর্ষে বা পরিশোধিত তেল যোগ করুন। লবণ ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি রোধ করবে এবং তেল পেস্টের আর্দ্রতা আটকে রাখবে, যা এটিকে কালো হতে দেবে না।
৩. পেষার সময় ভিনেগার যোগ: তেল এবং লবণ ছাড়াও, আদা এবং রসুনের পেস্টে এক টেবিল চামচ সাদা ভিনেগার যোগ করুন। এই ভিনেগার পেস্টটি ২ থেকে ৩ মাস ধরে ভাল রাখতে পারে। ভিনেগার পেস্টের pH স্তর বজায় রাখে, জারণ প্রক্রিয়া ধীর করে এবং পেস্টের স্বাদ অপরিবর্তিত রাখে।
৪. কাচের বয়ামে এবং ফ্রিজারে সংরক্ষণ: পেস্ট তৈরির পরে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আপনি এটি কীভাবে সংরক্ষণ করবেন। আপনি যদি এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যবহার করতে চান, তাহলে কখনও প্লাস্টিকের পাত্রে সংরক্ষণ করবেন না। কারণ এতে এর গন্ধ চলে যেতে পারে। আদা-রসুন পেস্ট সব সময় একটি বায়ুরোধী কাচের পাত্রে সংরক্ষণ করুন।
যদি আপনি পেস্টটি ৬ মাস পর্যন্ত ভাল রাখতে চান, তাহলে আইস কিউব ট্রেতে ফ্রিজে রাখতে পারেন। একবার হিমায়িত হয়ে গেলে, কিউবগুলিকে একটি জিপ-লক ব্যাগে রাখুন এবং ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। যখনই প্রয়োজন হবে, একটি কিউব বের করে সরাসরি রান্নার পাত্রে যোগ করুন। সামান্য সচেতনতা ও সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি মেনে চললেই আদা-রসুনের পেস্ট দীর্ঘদিন তাজা থাকবে। এতে যেমন সময় বাঁচবে, তেমনই প্রতিটি রান্নায় মিলবে সতেজ স্বাদ ও গন্ধ।
