
কলকাতা, ১৬ ফেব্রুয়ারি : তুলসীদাস বলরামন। সবাই বলে থাকেন তুলসীদাস বলরাম। এই কিংবদন্তি ভারতীয় ফুটবলার ১৬ ফেব্রুয়ারি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গিয়েছিলেন। ষাট থেকে ৭০ দশকে ভারতীয় ফুটবলে চুনী গোস্বামী, পি কে ও বলরামের নাম একই সঙ্গে উচ্চারিত হতো। অলিম্পিক গেমস সহ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি। ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবল স্ট্রাইকারদের একজন ছিলেন বলরাম। তিনি ইস্টবেঙ্গলের হয়ে বহু সাফল্যের নায়ক হয়ে রয়েছেন। ১৯৬১-৬২ সালের এই দলের অধিনায়কও ছিলেন। ৫০ ও ষাটের দশকে তিনি ভারতীয় ফুটবলের স্বর্ণযুগের অন্যতম সেরা সেন্টার ফরোয়ার্ড বা লেফট উইঙ্গার ছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গণে বলরাম ভারতের হয়ে সর্বসাকুল্যে ছত্রিশটি ম্যাচ খেলেছেন এবং দশটি গোল করেছেন।
অলিম্পিকে সাফল্য:
১৯৫৬ সালে মেলবোর্ন অলিম্পিকে তিনি জাতীয় দলে অংশ নেন এবং প্রথম খেলেন যুগোস্লাভিয়ার বিরুদ্ধে। এই অলিম্পিকে ভারতীয় দল অলিম্পিকে প্রথমবারের মত চতুর্থ স্থান অর্জন করে।আর ১৯৬০এ রোমের অলিম্পিকে তিনি প্রথম হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে দুর্দান্ত খেলে প্রথম গোল করেন।
সারা টুর্নামেন্টে ভারতীয় দলের তিনটি গোলের দুইটিই ছিল বলরামের। পেরুর বিরুদ্ধে টুর্নামেন্টের শেষ খেলায় বলরামই একমাত্র গোলটি করেন।
এশিয়ান গেমসে সাফল্য:
১৯৫৮ সালে টোকিও এশিয়ান গেমসে হংকংয়ের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে অসমাপ্ত ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে আঘাত থাকা সত্ত্বেও বলরাম দুটি গোল করে ভারতকে ৫-২ গোলের ব্যবধানে বিজয়ী করেছিলেন।
তবে বলরামের খেলোয়াড় জীবনে সবচেয়ে গৌরবময় মুহূর্ত ছিল ১৯৬২ সালে জাকার্তায় এশিয়ান গেমস। বলরাম প্রতিটি খেলায় অসাধারণ ফুটবল খেলেন এবং থাইল্যান্ড, জাপানের বিপক্ষে একটি করে গোল করেন। এবার এই এশিয়ান গেমসে ভারত প্রথম সোনা জেতে।
১৯৬২ সালে ভারত সরকার আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে তার অসাধারণ অবদানের জন্য তাকে অর্জুন পুরস্কারে সম্মানিত করেন।১৯৬৩ সালে তিনি স্বাস্থ্যের কারণে অবসর গ্রহণ করেন।
শেষ জীবনে বলরাম হুগলির উত্তরপাড়ার একাকীই বসবাস করতেন। তিনি অকৃতদার ছিলেন। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ১৬ ফেব্রুয়ারি ৮৭ বৎসর বয়সে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে পরলোক গমন করেন।
