
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে টলিউড তারকাদের উপস্থিতি গত কয়েক বছরে যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সেই প্রবণতা আরও স্পষ্ট। এরই মধ্যে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামনে এলেন অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার মায়ের নির্বাচনী জয়ে তিনি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসক-পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায় শুরু থেকেই সরব ছিলেন মিমি। সোশ্যাল মিডিয়ায় কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি লিখেছিলেন, “আরজি কর-কাণ্ডে অপরাধীর এমন শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ফের এই ধরনের জঘন্য অপরাধের কথা ভাবলেই ভয়ে মেরুদণ্ড কেঁপে ওঠে।” সেই মন্তব্যের জন্য হুমকি পেয়েছিলেন মিমি নিজেও। কিন্তু তার পরেও নির্যাতিতার মৃত্যুর প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ১৪ অগস্ট মধ্যরাতে পথে নেমেছিলেন তিনি।
আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদে মিমি পথে নামলে তাঁর দিকেও ধেয়ে এসেছিল হুমকি। এক নেটাগরিক তাঁকে লিখেছিলেন, “এই ঘটনা মিমির সঙ্গে ঘটলে কী হত? মিমির পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা দিত নাকি? তা হলে মিমি আমার ঘরে এলে ১০ লক্ষ ক্ষতিপূরণ দেব।” গর্জে উঠেছিলেন মিমি। এমনই নানা রকমের কটূক্তির বিরুদ্ধে সেই সময়ে মিমি লিখেছিলেন, “কাপুরুষের দল, আমায় গালাগাল করে কোনও লাভ হবে না। আমাকে থামানো যাবে না। আমাকে হুমকি দিয়ে লাভ নেই। আমি নির্ভীক হয়েই জন্মেছি। আমাদের মেয়েরা-বোনেরা সকলেই এমন নির্ভীক। আমাদের মেয়েদের বিরুদ্ধে যারা, তাদের সকলের বিরুদ্ধে এই লড়াই। ওরা ভাবে ওরাই বেশি শক্তিশালী লিঙ্গ এবং আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।” বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন অভিনেত্রী।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন নির্যাতিতার মা। ফল প্রকাশের পর তাঁর জয়ে সমর্থন জানিয়ে মিমি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “এই জয়টা আমার কাছে খুব ব্যক্তিগত মনে হচ্ছে। কোনও জয়ই আপনার ক্ষতিপূরণ করতে পারবে না।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, ঘটনাটির সঙ্গে আবেগগতভাবে নিজেকে জড়িয়ে দেখছেন অভিনেত্রী। উল্লেখযোগ্যভাবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে ২০১৯ সালে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে সাংসদ হন মিমি চক্রবর্তী। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। নির্বাচন-পরবর্তী বাংলার রাজনৈতিক আবহে মিমির এই প্রতিক্রিয়া নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যক্তিগত আবেগ, প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন—সব মিলিয়ে তাঁর অবস্থান এখন নজর কেড়েছে রাজ্যজুড়ে।
