
পাথারকান্দি (অসম) : অন্যান্য বছরের মতো এবারও বড়দিন উৎসবকে কেন্দ্র করে পাথারকান্দি বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন গির্জায় চলছে সাজ সাজ রব। গত কয়েধকদিন ধরে খ্রিষ্টধর্মালম্বীরা স্থানীয় গির্জাগুলোকে যথাসাধ্য বাহারি সাজে দৃষ্টিনন্দন করে সাজিয়ে তোলার প্রয়াস করছেন।
আলোর রোশনাই সহ রঙ-বেরংঙের বেলুন, ক্রিসমাস ট্রি, লিটিলস্টার ও বিভিন্ন রঙের মালা দিয়ে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে প্রতিটি গির্জাকে। পাথারকান্দির বিভিন্ন পাহাড়ি পুঞ্জি এলাকা সহ বৈঠাখালের গির্জাঘর, মাকুন্দা মিশন ও মানিকবন্দ সেন্ট জোসেফ এবং চুড়াইবাড়ির গির্জাগুলোকে মনোরম দৃশ্যে সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে জোর কদমে।
আগামী সোমবার ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন উপলক্ষ্যে এলাকার ছোট বড় সবকটি গির্জাতেই প্রভু জিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন উৎসব পালনের পাশাপাশি বিশেষ প্রার্থনা সভারও আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গত কয়েরকদিন ধরে বিভিন্ন খ্রিষ্টিয় সংস্থাকে এলাকার গরিব দুখি জনগণের মধ্যে শীতবস্ত্র, কাপড়চোপড়, ফলমূল সহ নগদ অর্থ বণ্টন করতে দেখা গেছে। উৎসবটি সচারুরূপে পালনের জন্য পাথারকান্দি, বাজারিছড়া ও চুড়াইবাড়ি থানার পুলিশ কর্মীরাও সজাগ দৃষ্টি রাখছে বলে জানা গেছে।
বড়দিন সম্পর্কে বাজারিছড়া মাকুন্দা লেপ্রসি কাম জেনারেল হসপিটালের বড়বাবু নাউহোম জানান, এই উৎসব খ্রিষ্টানদের সব থেকে বড় উৎসব। গোটা বিশ্বের সাথে ভারতেও এই উৎসব সাড়ম্বরে পালিত হয়। খ্রিষ্টানদের মধ্যে নানা শ্রেণি বিভাজন থাকলেও বরাক উপত্যকায় বিশেষ করে রোমান-ক্যাথলিক, প্রেসব্রিটেরিয়ান ও ব্যাপিস্টরাই বেশি। তবে বড়দিন পালনে সবাই একাকার হয়ে শোক-দুঃখ ভুলে গিয়ে পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে বড়দিনের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন সহ প্রভু যিশুকে স্মরণ করে সমাজের সকলের সুখ সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করে বিশ্বশান্তির জন্যও প্রার্থনা করেন।
বড়দিনের আগের দিন প্েতিটি বাড়িতে পিঠেপুলি তৈরি করে আত্মীয়-স্বজনদের নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো হয়। পরের দিন নতুন কাপড় পরিধান করে সবাই গির্জায় উপস্থিত হয়ে প্রার্থনা সভায় অংশগ্রহণ করেন। বিকালে বসে জমজমাট সাস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আসরও। এ-সব আসরে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি দূরদূরান্তের শিল্পীরাও সঙ্গীতানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে উৎসবের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেন।
এদিন ছোটদের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে স্বর্গ থেকে নেমে আসা কাল্পনিক শান্তাক্লোজ নামের দূত। এতে শিশু সহ বড়রা শান্তাক্লোজ সেজে শিশুদের মধ্যে চকলেট টফি ও অন্যান্য পুরস্কার সামগ্রী বণ্টন করে থাকেন।
