
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: আসন্ন অসম বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে প্রথম প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই তালিকায় ৮৮ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রত্যাশিতভাবেই জালুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে আবারও প্রার্থী হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং এবারও সেই কেন্দ্র থেকেই তিনি ভোটযুদ্ধে নামছেন।
অসমে আগামী ৯ এপ্রিল এক দফায় অনুষ্ঠিত হবে ১২৬টি বিধানসভা আসনের নির্বাচন। তার আগেই বিজেপির প্রথম তালিকা প্রকাশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। জালুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে ২০০১ সাল থেকেই ধারাবাহিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তখন তিনি কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরও নিজের কেন্দ্র পরিবর্তন করেননি তিনি। ফলে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই আসনে তাঁর প্রভাব অটুট রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
প্রথম তালিকায় চমক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন সদ্য কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রদ্যোৎ বরদলৈ। দলত্যাগের মাত্র এক দিনের মধ্যেই তাঁকে দিসপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের অবনতি এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ অসন্তোষই তাঁকে এই সিদ্ধান্তে ঠেলে দিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। কংগ্রেসের দ্বিতীয় প্রার্থিতালিকায় তাঁর নাম না থাকায় আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন প্রদ্যোৎ। এরপরই তিনি দল ছাড়ার ইঙ্গিত দেন। ঠিক সেই সময়েই মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা তাঁকে দলে স্বাগত জানিয়ে জানিয়েছিলেন, যোগ দিলে আসন বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপিতে যোগ দেন প্রদ্যোৎ এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি টিকিটও পেয়ে যান। এছাড়াও কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি ভূপেন বরা সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁকেও প্রথম প্রার্থিতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে দল। তাঁকে বিহপুরিয়া কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। এই তালিকায় আরও রয়েছেন রাজ্যের একাধিক বর্তমান মন্ত্রী এবং শীর্ষ নেতা। পীযূষ হাজরিকা, জয়ন্ত মল্ল বড়ুয়া, অশোক সিংহল, অজন্তা নিয়োগ, চন্দ্রমোহন পাটওয়ারি এবং রূপেশ গোয়ালার মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা তাঁদের নিজ নিজ আসন থেকে আবারও লড়বেন। তবে তালিকায় কিছু চমকও রয়েছে। মন্ত্রী নন্দিতা গারসোলা এবার তাঁর বর্তমান আসন হাফলং থেকে টিকিট পাননি। একইভাবে অসম বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি এবং প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্যও তাঁর বর্তমান কেন্দ্র গুয়াহাটি পূর্ব থেকে প্রার্থী হিসেবে জায়গা পাননি। ফলে দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিজেপির এই প্রথম তালিকা প্রকাশের পরই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বে দলীয় শক্তি ধরে রাখার কৌশল, অন্যদিকে কংগ্রেস থেকে আসা নতুন মুখদের দ্রুত গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি যে পূর্ণ শক্তি নিয়েই মাঠে নামছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এখন নজর আগামী দফার প্রার্থিতালিকা এবং বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়ার দিকে।
