
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:ভবানীপুরে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি! প্রচারে বেরোতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিলেন তৃণমূল সমর্থকরা। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।‘ছাব্বিশের যুদ্ধে’ হাই ভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু। আজ, বৃহস্পতিবার ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া এলাকায় প্রচারে আসেন শুভেন্দু। ছিলেন কর্মী-সমর্থকরা। প্রচার কিছুটা শুরু হতেই তৃণমূলের এক কার্যালয়ের সামনে আসে শুভেন্দুর প্রচার মিছিল। সেখান থেকেই ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। পালটা স্লোগান দিতে থাকেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। তাতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরপরই থানায় যান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে।
বিজেপি নেতা তাপস রায় এবং দক্ষিণ কলকাতা বিজেপির সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্যকে সঙ্গে নিয়ে চক্রবেড়িয়া এলাকার একটি বাজারে দীর্ঘক্ষণ প্রচার চালান তিনি। কথা বলেন এলাকার বাসিন্দা ও দোকানিদের সঙ্গেও। ভবানীপুরের বাসিন্দাদের সুবিধা অসুবিধার কথা যেমন জানতে চান, তেমনই এলাকার তৃণমূলের নেতারা কোনও অন্যায় বা অত্যাচার করছেন কি না, তা-ও জানাতে চান নন্দীগ্রামের বিদায়ী বিধায়ক। কোথাও কোথাও শুভেন্দুকে মেটে সিঁদুরের তিলক পরিয়ে, কোথাও আবার তাঁর গলায় মালা পরিয়ে কর্মী সমর্থকেরা বরণ করে নেন। ঢাকঢোল পিটিয়ে শুভেন্দুর নামে জয়ধ্বনি দিয়েও কর্মীরা প্রচার করেন। মাঝে একটি জায়গায় তৃণমূলে জনা দশেক কর্মী পতাকা হাতে, ‘মমতা ব্যানার্জি জিন্দাবাদ’, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। তাতে সাময়িক উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হলেও পুলিশি হস্তক্ষেপে বড়সড় কোনও গোলমালের ঘটনা ঘটেনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার আগে চক্রবেড়িয়া রোডে নিজের একটি পার্টি অফিসও তৈরি করেছেন শুভেন্দু। এলাকা প্রদক্ষিণ করে সেই পার্টি অফিসে গিয়ে প্রচার শেষ করেন। সেখানেই ভবানীপুর বিধানসভার আটটি ওয়ার্ডের সভাপতি এবং তিনটি মণ্ডলের সভাপতিদের নিয়ে বৈঠকে বসেন বিরোধী দলনেতা। দক্ষিণ কলকাতা বিজেপি সূত্রে খবর, সেখানেই সভাপতিরা তাঁকে অভিযোগ করেন, ভবানীপুর থানা থেকে অপরিচিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে বিজেপি কর্মীদের ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ, বলা হচ্ছে, বিজেপির হয়ে ভোট করাতে নামলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে, নানা অসুবিধার মধ্যে পড়তে হবে। এমন অভিযোগ পেয়েই দলবদল নিয়ে চক্রবেড়িয়ার পার্টি অফিস থেকে রওনা দেন ভবানীপুর থানার উদ্দেশে। থানায় পৌঁছেই উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের উপর ক্ষোভ উগরে দেন শুভেন্দু। সেখানেই তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ ওয়েলফেয়ার প্রধান শান্তুনু সিংহ বিশ্বাসের নির্দেশেই বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। এমনটা হলে তিনিও যে পুলিশ প্রশাসনকে ছেড়ে কথা বলবেন না, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী।
প্রসঙ্গত, রবিবার মধ্যরাত থেকে পুলিশ এবং আধিকারিকদের বদলির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না! এই আবহেই বৃহস্পতিবার পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিলেন শুভেন্দু।
