Breaking News

 

Travel

1 hour ago

Hiking Guide: বসন্তে পাহাড় ডাকছে! স্বল্প খরচে পশ্চিমবঙ্গের এই ৫ ট্রেকিং রুটে ঘুরে আসুন

Trekking In West Bengal
Trekking In West Bengal

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: শীতের বিদায়ের পর বসন্তের শুরুতেই প্রকৃতি যেন নতুন করে সাজে। চারপাশে ফুটে ওঠে টকটকে লাল পলাশ, পাহাড়ি পথে দেখা মেলে রডোডেনড্রনের উজ্জ্বল রঙ। এই সময়টা ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। বিশেষ করে যারা পাহাড় ভালোবাসেন এবং একটু অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ নিতে চান, তাদের জন্য বসন্তকাল আদর্শ সময় ট্রেকিং বা হাইকিংয়ের।

অনেকেই মনে করেন ট্রেকিং মানেই প্রচুর খরচ বা দূরের পাহাড়ি রাজ্যে যাওয়া। কিন্তু বাস্তবে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই রয়েছে এমন কিছু সুন্দর ট্রেকিং রুট, যেখানে খুব অল্প খরচে দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি শরীরচর্চাও হয়ে যায় এইসব ট্রেকিংয়ে।


∆ এখানে রইল পশ্চিমবঙ্গের এমনই পাঁচটি জনপ্রিয় ও কম খরচের ট্রেকিং রুটের ঠিকানা—


১। ধোত্রে-টুমলিং:  সান্দাকফুর মূল রাস্তায় ভিড় না বাড়িয়ে চলে যান ধোত্রে। মানেভঞ্জনের কাছে এই ছোট্ট গ্রাম থেকে হাঁটা শুরু করুন। রডোডেনড্রনের জঙ্গলের পথ ধরে পৌঁছে যান টংলু, সেখান থেকে টুমলিং। দু’দিনের এই সফরে আপনার সঙ্গী হবে লাল রডোডেনড্রন ফুল আর কাঞ্চনজঙ্ঘা। কপাল ভালো থাকলে বেশ ভালোভাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন করতে পারবেন। এনজেপি থেকে শেয়ার গাড়ি ও ধোত্রেতে হোম-স্টে মিলিয়ে ২ রাত ৩ দিনের খরচ মাথাপিছু ৩,০০০-৩,৫০০ টাকার মধ্যে রাখা সম্ভব। এখানকার অধিকাংশ হোম-স্টেতে খাওয়া-দাওয়া ও থাকা মিলিয়ে প্রতিদিনের খরচ ১,২০০-১,৫০০ টাকার মধ্যে থাকে।

২। বিহারীনাথ পাহাড়:  দক্ষিণবঙ্গেও কিন্তু দারুণ হাইকিং ট্রেইল রয়েছে। এই সময় বাঁকুড়ার বিহারীনাথ পাহাড়ে ট্রেকিং করা এই সময়ে সবথেকে আরামের। প্রায় ৩ কিলোমিটারের রাস্তাটি পলাশ আর শিমুলে সেজে থাকে। উচ্চতা মাত্র ১,৪৮৫ ফিট হওয়ায় যে কেউ অনায়াসেই এই পাহাড় জয় করতে পারেন। বাঁকুড়া স্টেশন থেকে অটো ভাড়া এবং স্থানীয় লজে এক রাত থাকা মিলিয়ে মাথাপিছু খরচ হবে মাত্র ১,৫০০-২,০০০ টাকা। বর্তমানে বিহারীনাথের সরকারি গেস্ট হাউস বা স্থানীয় লজগুলোতে ৮০০-১,০০০ টাকার মধ্যে ডবল বেড ঘর পাওয়া যায়।

৩। বক্সা ফোর্ট ও লেপচাখা:  আলিপুরদুয়ারের সান্তালাবাড়ি থেকে শুরু করুন এই ট্রেক। ঐতিহাসিক বক্সা ফোর্ট পেরিয়ে পৌঁছে যান লেপচাখা গ্রামে। বসন্তে শুকনো পাতার মড়মড় শব্দ আর বন্যফুলের গন্ধে ভরে থাকে গোটা রাস্তা। পাহাড়ের নির্জনতা যারা ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হয় না। আলিপুরদুয়ার থেকে সান্তালাবাড়িঋ যাতায়াত ও লেপচাখায় এক রাত থাকা-খাওয়ার বাজেট মাথাপিছু ২,৫০০ টাকার আশেপাশে। লেপচাখার হোম-স্টেগুলোতে ১,০০০-১,২০০ টাকার প্যাকেজে থাকা ও খাওয়ার সুবন্দোবস্ত রয়েছে।

৪। তাকদহ ও লামাহাট্টা :  দার্জিলিংয়ের ঘিঞ্জি পরিবেশ এড়াতে চলে যান তাকদহ। ব্রিটিশ আমলের বাংলো আর পাইন গাছের জঙ্গলে ঘেরা এই গ্রাম বসন্তে বিচিত্র অর্কিডে সেজে ওঠে। এখান থেকে ছোট্ট হাইকিং করে পৌঁছে যেতে পারেন লামাহাট্টা ইকো পার্কে। সস্তায় পাহাড়ের আমেজ পাওয়ার জন্য এটি সেরা রুট। শেয়ার গাড়িতে যাতায়াত করলে এবং সাধারণ হোম-স্টেতে থাকলে ২ দিনে খরচ পড়বে প্রায় ২,৫০০-৩,০০০ টাকা। তাকদহের পুরনো ব্রিটিশ বাংলোর বদলে স্থানীয় হোম-স্টেগুলো বেছে নিলে খরচ আপনার হাতের মুঠোয়।

৫। শুশুনিয়া পাহাড় :  বাঁকুড়ার আর এক রত্ন হল শুশুনিয়া পাহাড়। বসন্তে এই পাহাড়ের গায়ে যখন পলাশের রং লাগে, তখন এর রূপ বদলে যায়। পাথুরে পথে হাইকিং করার আনন্দ যেমন আছে, তেমনই পাহাড়ের নিচের ঝরনার ধারে সময় কাটানোও বেশ আরামের। এটি সবথেকে সস্তা রুট; ট্রেনে যাতায়াত ও স্থানীয় আতিথেয়তায় একবেলার ট্রিপে খরচ হতে পারে মাত্র ৮০০-১,২০০ টাকা। স্টেশনের কাছেই সুলভে খাওয়ার হোটেল ও নামমাত্র ভাড়ায় রাত কাটানোর ছোট লজ সহজেই পেয়ে যাবেন। 

বসন্তের মনোরম আবহাওয়ায় পাহাড়ে হাঁটার আনন্দই আলাদা। তাই এই সময়টা শুধু ঘরে বসে না থেকে, অল্প বাজেটেই পশ্চিমবঙ্গের এই ট্রেকিং রুটগুলোতে ঘুরে এসে উপভোগ করতে পারেন প্রকৃতির রঙিন রূপ।  

You might also like!