
কলকাতা: কথা দিয়েছিলেন, সময়সীমা পার হলেই কড়া পদক্ষেপ নেবেন; আর এবার সেই পথেই হাঁটলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা কিছু ‘বিতর্কিত’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার তাঁকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেই নোটিসে মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর মন্তব্যের সপক্ষে প্রামাণ্য নথি দেওয়ার জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। সোমবার সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ায় এবার সরাসরি আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
সকালে সমাজমাধ্যমে শুভেন্দু লেখেন, “তাঁকে (মুখ্যমন্ত্রীকে) দেওয়া সময়সীমা এখন অতিক্রম হয়ে গিয়েছে, এবং মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আচরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে আমার নাম কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত বলে তাঁর কল্পিত অভিযোগগুলির কোনও স্পষ্ট প্রমাণ নেই ওনার কাছে, অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত তাই বিপাকে পড়ে তিনি কোনও উত্তর দিতে পারেননি।” বিরোধী দলনেতার দাবি, কী জবাব দেবেন, তা হয়তো মুখ্যমন্ত্রী বুঝে উঠতে পারেননি। মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে তিনি আরও লেখেন, “এবার উনি আদালতে আইনি পরিণতির সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত হোন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এবার আপনার সাথে আদালতে দেখা হবে।”
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতি এবং শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর কিছু মন্তব্য নিয়ে আপত্তি জানান শুভেন্দু। তার পরই শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীকে আইনজীবী মারফত মানহানির নোটিস পাঠান তিনি। আইনি নোটিসে দাবি করা হয়, কোনও এক কয়লা দুর্নীতির সঙ্গে শুভেন্দু এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যুক্ত রয়েছেন বলে ইঙ্গিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নোটিসে এ-ও বলা হয় যে এই বিষয়ক প্রামাণ্য নথিও তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই ধরনের মন্তব্যের জন্য শুভেন্দুর ভাবমূর্তি এবং সম্মান নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন বিরোধী দলনেতার আইনজীবী। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কী প্রমাণ্য নথি রয়েছে তা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শুভেন্দুর কাছে দেওয়ার জন্য বলা হয় আইনি নোটিসে।
শুভেন্দুর দেওয়া ওই ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে বিরোধী দলনেতার দাবি, তিনি এখনও পর্যন্ত ওই নোটিসের কোনও জবাব মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে পাননি। এ অবস্থায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে এগোচ্ছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ বার আদালতে দেখা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তিনি।গত বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকার এবং তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এর দফতরে হানা দিয়েছিল ইডি। আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনেরও বাড়িতে তল্লাশি চালান ইডির আধিকারিকেরা। ওই দিন দু’জায়গাতেই পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দু’জায়গা থেকেই ইডি এবং বিজেপির ‘আঁতাত-তত্ত্ব’ উস্কে দেন তিনি। তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশল চুরির চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা। পরের দিনও ইডির তল্লাশির প্রতিবাদে কলকাতায় পদযাত্রা করেন মমতা। সেই দিনও ইডি এবং বিজেপিকে নিশানা করেন তিনি।
ইডির আইপ্যাক অভিযানের ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে জোড়া অভিযোগ দায়ের হয়েছে দুই থানায়। অন্য দিকে, ওই দিনের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ইডিও। এই পরিস্থিতির মাঝেই এ বার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আইনি সংঘাতের হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধী দলনেতা।
