
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ডিজিটাল যুগে নগদ টাকার ঝামেলা অনেকটাই কমেছে। এখন পকেটে খুচরো না থাকলেও সমস্যা নেই— স্মার্টফোন বার করে কিউআর কোড স্ক্যান করলেই মুহূর্তে মিটে যাচ্ছে বিল। শহর থেকে গ্রাম, চায়ের দোকান থেকে বড় শপিং মল— সর্বত্রই এখন ডিজিটাল পেমেন্টের এই সহজ পদ্ধতি ব্যাপক জনপ্রিয়।
মুদি দোকান, রেস্তোরাঁ, পেট্রোল পাম্প কিংবা রাস্তার ধারের ছোট দোকান— প্রায় সব জায়গাতেই দেখা যায় সাদা-কালো চৌকো কিউআর কোড। গ্রাহক শুধু স্ক্যান করলেই সরাসরি টাকা পৌঁছে যায় দোকানদারের অ্যাকাউন্টে। দ্রুত, ঝামেলাহীন এবং নিরাপদ— এই সুবিধার জন্যই দিন দিন বাড়ছে এর ব্যবহার। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সহজ পদ্ধতির সুযোগ নিচ্ছে সাইবার জালিয়াতরাও। ভুয়ো কিউআর কোড লাগিয়ে বা আসল কোড বদলে দিয়ে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে বিভিন্ন জায়গায়। অসতর্কভাবে স্ক্যান করলেই মুহূর্তের মধ্যে টাকা চলে যেতে পারে প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে।
তাই এহেন পরিস্থিতিতে সচেতন থাকতে মেনে চলুন কয়েকটি কার্যকরী কৌশল -
প্রথমত, কিউআর কোডের উপর কোনও স্টিকার বা আলাদা কাগজ সাঁটানো আছে কি না, তা খুঁটিয়ে দেখুন। অনেক সময় প্রতারকরা আসল কোডের ওপর নিজেদের কোড বসিয়ে দেয়। টাকা দেওয়ার আগে কোডটি আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে দেখুন। সামান্য সন্দেহ হলেও সেই কোড ব্যবহার করবেন না।
দ্বিতীয়ত, তাড়াহুড়ো করবেন না। কোড স্ক্যান করার পর স্ক্রিনে যে নাম বা তথ্য ফুটে উঠছে, তা মন দিয়ে পড়ুন। দোকানের নামের সঙ্গে স্ক্রিনের নাম মিলছে কি না, তা যাচাই করে তবেই পিন (PIN) দিন। মনে রাখবেন, টাকা পাওয়ার জন্য কখনও কিউআর কোড স্ক্যান করতে হয় না। কেউ যদি টাকা পাঠানোর অছিলায় আপনাকে কোড স্ক্যান করতে বলে, জানবেন সেটি নিশ্চিত জালিয়াতি।
তৃতীয়ত, লেনদেনের জন্য সবসময় গুগল পে, ফোন পে বা পেটিএম-এর মতো বিশ্বস্ত অ্যাপ ব্যবহার করুন। অচেনা কোনও থার্ড পার্টি অ্যাপ দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে আপনার ফোনের গোপন তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
চতুর্থত, স্ক্যান করার পর যদি কোনও পপ-আপ মেসেজ বা সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করতে বলা হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে পিছিয়ে আসুন। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত ইউপিআই পিন পরিবর্তন করা এবং ব্যাঙ্কের নিরাপত্তা সেটিংস মজবুত রাখা প্রয়োজন। যদি কোনওভাবে জালিয়াতির শিকার হন, দেরি না করে ব্যাঙ্কের হেল্পলাইন বা জাতীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টালে অভিযোগ জানান। মনে রাখবেন, আপনার সচেতনতাই ডিজিটাল প্রতারণা রুখতে সবথেকে বড় অস্ত্র।
ডিজিটাল লেনদেন নিঃসন্দেহে আমাদের জীবনকে সহজ করেছে। তবে সামান্য সচেতনতা না থাকলে এই সুবিধাই হয়ে উঠতে পারে বড় বিপদের কারণ। তাই কিউআর কোড স্ক্যান করার আগে একটু সতর্ক থাকাই নিরাপদ থাকার সেরা উপায়।
