kolkata

1 hour ago

Sukanta Majumdar : 'আমরা চাইলে সব পার্টি অফিস ভেঙে দিতে পারতাম' : তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ সুকান্ত মজুমদারের

Sukanta Majumdar
Sukanta Majumdar

 

কলকাতা : আগামী বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রাক্কালে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা ড. সুকান্ত মজুমদার। শনিবার কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে আয়োজিত ২০তম 'রোজগার মেলা' চলাকালীন রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একাধিক উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ তুলে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন, বিজেপি চাইলে তৃণমূলের সমস্ত পার্টি অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে বা পুড়িয়ে দিতে পারত; কিন্তু বিজেপি এই ধরণের হিংসাত্মক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে না।

কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে ন্যাশনাল লাইব্রেরির ভাষা ভবনে আয়োজিত এই রোজগার মেলার মাধ্যমে দেশজুড়ে ৫১ হাজারের বেশি যুবক-যুবতীকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। কলকাতায় আয়োজিত কর্মসূচিতেও একাধিক যোগ্য প্রার্থীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন সুকান্ত মজুমদার। এই অনুষ্ঠানের ফাঁকেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের বিভিন্ন বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন তিনি।

নন্দীগ্রামের পর রেজিনগর উপনির্বাচনেও তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের মেয়াদ (‘এক্সপায়ারি ডেট’) শেষ হয়ে গিয়েছে। রেজিনগরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীর প্রশাসন ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়ে তিনি জানান, যখন তৃণমূলের ক্ষমতা ছিল, তখন রাজ্য বিজেপি সভাপতি হিসেবে তাঁকেও একাধিকবার হুমকি ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।

সুকান্ত মজুমদার কড়া ভাষায় বলেন, "আমরা চাইলে তৃণমূলের সমস্ত পার্টি কার্যালয় ভেঙে দিতে পারতাম, যেমনটা অতীতে ওরা আমাদের সঙ্গে করেছে।" তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুরে বিজেপির দলীয় কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক চিহ্ন সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সুকান্ত মজুমদার মন্তব্য করেন, একই প্রতীক চিহ্নের একাধিক দাবিদার থাকলে কমিশন সম্পূর্ণ সঠিক সিদ্ধান্তই গ্রহণ করেছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, "জোড়া ফুল ছিঁড়ে দু'জনের মধ্যে তো ভাগ করে দেওয়া যায় না, তাই প্রতীকটি ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করাই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।" একই সঙ্গে আসন্ন দুই উপনির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেফতারির প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার জানান, তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি পুরনো অভিযোগ ও মামলা ঝুলছিল, যার ভিত্তিতেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। এটি আদালতের বিচারাধীন বিষয় এবং অভিযোগ গুরুতর না হলে তিনি অবশ্যই জামিন পাবেন। এই ইস্যুতে জাতীয় কংগ্রেসকেও নিশানা করে তিনি বলেন, এতদিন যখন তৃণমূলে কর্মীরা কংগ্রেস কর্মীদের মারধর করত বা বোমাবাজি করত, তখন রাহুল গান্ধীর মুখ থেকে একটি শব্দও বের হয়নি। এতদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিষ্টি কথা শুনে নীরব থাকলেও এখন তাঁরা হঠাৎ মুখ খুলছেন।

উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। তার আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এর পরপরই জাতীয় স্তরে 'ইন্ডি' জোটকে শক্তিশালী করার বার্তা দিয়ে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।


You might also like!