
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:
**তোমার পরিবর্তন হবে না, তৃণমূলের প্রত্যাবর্তন হবে: মমতা
মমতা বলেন, ‘ওদের নাকি পরিবর্তনের সংকল্প? এজেন্সি নিয়ে এসে ধমকানি, চমকানি? যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা। এ বার দুরন্ত গতিতে খেলা হবে। বিজেপিকে ছক্কা মেরে অক্কা করে দিতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস জিতছে, বাংলার মানুষ জিতছে, জিতবে। এ বারে আমাদের সিট আরও বাড়বে। আর তোমরা রসাতলে যাবে। তোমাদের বিনাশ হবে। মহিষাসুরমর্দিনী অসুর বিনাশে নামছে। তোমার পরিবর্তনের সংকল্প গল্প থেকে যাবে। তোমার পরিবর্তন হবে না, তৃণমূলের প্রত্যাবর্তন হবে। আমি বলে দিলাম আবার দেখা হবে। জিতে নবান্নে দেখা হবে।’
**তিনটে গুলি চালিয়েছে, SIR-NRC-Census
আমি RSS-কে আগে শ্রদ্ধা করতাম। গান্ধীজির মৃত্যুর পরে করি না। গান্ধীজির মৃত্যুর সময়ে তিনটে গুলি ফায়ার করেছিল। এখনও তিনটে গুলি ফায়ার। SIR-এর নামে লোকের নাম কাটা, NRC-র মাধ্যমে ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করা, সেনশাসের নামে মানুষকে বিদায় করা। একটাও হবে না। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রতি আমাদের ভরসা আছে। সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে নাম বাদ গেলে BLA-1 BLA2-দের সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে অ্যাপ্লাই করবেন। সেখানে বিনা পয়সায় আইনজীবীরা সাহায্য করবেন। যাতে আমরা যাদের নাম বাদ যাবে, নাম তোলার জন্য চেষ্টা করতে পারি।
**বিজেপি হঠাও দেশ বাঁচাও, ডাক মমতার
মমতা বলেন, ‘২০১১-য় বলেছিলাম, বদলা নয় বদল চাই। এ বার বলছি, বিজেপি হঠাও দেশ বাঁচাও। বিজেপি এলে বাংলায় কথা বলতে দেবে না, মাছ-মাংস খেতে দেবে না। ছাতু খেতে দেবে না। বাজার বন্ধ করে দেবে, বুলডোজ়ার চালাবে। বিহারে ভোটের আগে নীতিশ কুমার, ভোটের পরে ফিনিশ কুমার।’
**নিজেরা কোন দিন বেলাইন হয়ে যাবেন, তোপ মমতার
মমতার কথায়, ‘বিজেপির কথায় আইসি চেঞ্জ করবেন, ডিএম চেঞ্জ করবেন দেড় মাসের জন্য। মনুষ্যত্ব বদলাতে পারবেন না। মানুষ আর কত লাইন দেবে? নোটবন্দি, আধার কার্ডের লাইন, SIR-এর লাইন, এখন আবার গ্যাসের জন্য লাইন। মানুষকে লাইন দেওয়াতে দেওয়াতে নিজেরাই বেলাইন হয়ে যাবেন। দেশের সর্বনাশ করে দিচ্ছেন।’
**সবকটাকে লড়ে নেবো: মমতা
মমতা বলেন, ‘রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি আক্রান্ত হয়েছে। এ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি আক্রান্ত হবে। কালীঘাট আক্রান্ত হবে। চারদিকে গুন্ডা লেলিয়ে দেবে। আমরা বলি, বুকের পাটা থাকলে দেখি। লড়ে নেবো। সবকটাকে লড়ে নেবো। আমরা ঘাসকে জন্ম দিই। ঘাসে মুখ দিয়ে চলি না। নন্দিনী চক্রবর্তী বাঙালি মহিলা সিএস ছিলেন। আপনারা তো অ্যান্টি বাঙালি না শুধু, অ্যান্টি হিন্দিও।’
**আসলে এফিশিয়েন্টদের বাদ দিলেন:মমতা
মমতার কথায়, ‘আপনারা রাত সাড়ে ১২টার পরে নন্দিনী চক্রবর্তীকে তাণ্ডব করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলেন। বিজেপির দালালি করতে গিয়ে রাজ্যকে জিজ্ঞাসা করার দরকার মনে করলেন না। ধিক আপনাদের। হোম সেক্রেটারিও বাদ। তিনি তো নন বেঙ্গলি কেন বাদ হলেন? ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, বিনীত গোয়েল তো নন বেঙ্গলি ছিলেন। তার মানে নন বেঙ্গলি এফিশিয়েন্টদেরও বাদ দিয়েছেন। আসলে বিজেপির কথায় কারা কাজ করবেন। দেখে দেখে চয়েস করছেন। এটা বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ। জেনে রাখুন যে অফিসারই পাঠান, তাঁরা সবাই আমাদের হয়েই কাজ করবেন, মানুষের হয়ে, বাংলার হয়ে কাজ করবেন।’
**মুখ্যসচিব বদল নিয়ে তোপ মমতার
মমতা বলেন, ‘রাত একটায় মেসেজ পেলাম। মধ্যরাতে একটা স্বাভাবিক দল কাউকে কাজে লাগিয়ে ছুপারুস্তমের মতো গুপ্ততাণ্ডব করছে? বাঙালি মহিলা চিফ সেক্রেটারি। ওরা নারী বিরোধী। আগে নিয়ম ছিল রাজ্য সরকারের কাছে লিস্ট চাইতেন। আমরা তিনটে করে নাম পাঠাতাম। ওরা সিলেক্ট করত। এ তো মগেরমুলুক। জমিদার, জোরদার এরা। প্রধানমন্ত্রী মিটিংয়ে বলছেন, চুন চুনকে মারেঙ্গে। আমি ওনাকে বলি দেশকে কী ভাবে রক্ষা করবেন? আপনার মুখে এটা শোভা পায় না।’
**বিশ্বাস রাখুন ভরসা, ভরসা রাখুন: মমতা
মমতার কথায়, ‘আজ মিছিলে প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, যতই করো হামলা। জিতবে কিন্তু বাংলা। বাংলার মানুষ শান্তিতে থাকুক। বাংলার ভোটটা শান্তিপূর্ণ ভাবে করে দিন। কেউ কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। এর পরে দিল্লিটা আমরা বুঝে নেবো। বিশ্বাস রাখুন ভরসা, ভরসা রাখুন, মানুষের স্কিম আরও বাড়বে।’
**ক্যাশ দিয়ে লাভ নেই: মমতা
মমতার তোপ, বিজেপি সরকার মানুষের কথা ভাবেনি। ভোটের স্বার্থে হঠাৎ করে গ্যাসের সার্ভার বন্ধ করে দিয়েছে। কেন আগে থেকে প্ল্যান অফ অ্যাকশন তৈরি করেননি? সব জেনেও চালাকির আশ্রয় নিচ্ছেন? গ্যাস দিন মানুষকে, গ্যাস বেলুন নয়। বিজেপি তোমার ব্রিগেড ভরানোর জন্য ক্যাশ দিয়ে লাভ নেই। ওই ক্যাশ গ্যাসে দিন।
**প্রথম থেকে এর প্রতিবাদ করেছি: মমতা
মমতা বলেন, ‘মানুষ যখন অ্যাপ্লাই করেছে, দেখেছে লাইন পাচ্ছে না। আমরা প্রথম দিনই এর প্রতিবাদ করেছি। আমি সমস্ত কোম্পানির সঙ্গে মিটিং করে জেনেছি, গ্যাসের মোটেই সঙ্কট নেই। আমরা বলেছি, সার্ভার ওপেন করুন।’
**ধর্মতলায় মমতা
মিছিল শেষে ধর্মতলায় মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এই মিছিল ভোটের আগেই ঠিক করা ছিল। কারণ, গ্যাসের দাম যে ভাবে বেড়েছে এবং চালাকি করে একটা কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করেছে।
