
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সপ্তমীর দিন চোরবাগান পুজো মণ্ডপের এক্সিট গেটের সামনে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান ১৯ জন। ঠাকুর দেখতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার দায় কার, কার গাফিলতিতে এতগুলো প্রাণ ঝরে গেল—তা নিয়ে এখনও উঠছে একাধিক প্রশ্ন। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই পৃথক দুটি সিট গঠন করা হয়েছে। দশমী পেরিয়ে গেলেও বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা চোরবাগান মণ্ডপের প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। বৃহস্পতিবার মণ্ডপ পরিদর্শনের পর সিটের প্রধান তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী জানিয়েছিলেন, প্রতিমা নিরঞ্জনে আপত্তি নেই। তবে তদন্তের স্বার্থে মণ্ডপের বর্তমান কাঠামো ও বিন্যাস অপরিবর্তিত রাখতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই শনিবার প্রতিমা নিরঞ্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুজো কমিটি। তবে আপাতত খোলা হচ্ছে না বিতর্কিত ওই মণ্ডপ।
চোরবাগান কাণ্ডের তদন্তে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, মণ্ডপ ফাঁকা থাকলে বা ভিড় নিয়ন্ত্রণে থাকলে ১৩৪ টনের এসি যথেষ্ট ছিল। তবে বিপুল পরিমাণ ভিড় হওয়ায় এসি এবং ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না। তার ফলে দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। মণ্ডপ থেকে একসঙ্গে বহু দর্শনার্থী তাড়াহুড়ো করে বেরনোর চেষ্টা করেন। তার ফলে পদপিষ্টের মতো বড়সড় বিপর্যয় হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টেও শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যুর তথ্য সামনে এসেছে। তার ফলে স্বাভাবিকভাবেই মণ্ডপের ভেন্টিলেশন সিস্টেম নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সিটের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী জানিয়েছেন, “মণ্ডপে ঢোকা ও বেরনোর রাস্তা খুবই সরু ছিল। আলোও কম ছিল। দুর্ঘটনার সময় এমারজেন্সি এক্সিট বন্ধ ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ যথাযথ কাজ করেছে বলেই মনে হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় যেমন আলো ছিল, সেই আলোতেই আমরা গোটা মণ্ডপ ঘুরে দেখলাম। ব্যবস্থাপনা হতাশাজনক। এখনই কোনও সিদ্ধান্তের কথা বলা যাচ্ছে না।” বৃহস্পতিবার প্রতিমা নিরঞ্জনের অনিশ্চয়তা নিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিমা নিরঞ্জন করা যেতে পারে সময় মেনে। কিন্তু প্যান্ডেল রাখতে হবে।” পাশাপাশি সিটের প্রধান এও জানিয়েছেন, “যাঁর বিভ্রান্তিকর ঘোষণা পর এমন দুর্ঘটনার পরিস্থিতি, তাঁকে তদন্তের আওতায় রাখা হচ্ছে।” ইতিমধ্যেই আটক হয়েছে চোরবাগানের মণ্ডপের দুই মাইকে ঘোষণাকারী দুই ব্যক্তি। সিটের নির্দেশ মেনে শনিবারই নিমতলা ঘাটে চোরবাগানের প্রতিমা নিরঞ্জন হবে।
