
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টে মুখ পুড়ল রাজ্যের। চিংড়িঘাটা মেট্রোর বকেয়া কাজ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশই বহাল রাখল শীর্ষ আদালত। সোমবার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই প্রকল্পে রাজ্য সরকার তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করেছে। মামলাটি খারিজ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে আদালত রাজ্যকে মামলা তুলে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। আদালতের এই কড়া পর্যবেক্ষণের পর মেট্রো প্রকল্পের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ানো জট দ্রুত কাটাতে রাজ্যকে এখন বাড়তি সদিচ্ছা দেখাতে হবে।
চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। কলকাতা হাই কোর্ট বকেয়া কাজ শেষ করার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু উচ্চ আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। সোমবার সেই মামলায় দেশের প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘জনসাধারণের প্রকল্প নিয়ে রাজনীতি করবেন না। হাই কোর্টের নির্দেশ মেনেই কাজ হবে। হাই কোর্টই সময় বেঁধে দিয়ে কাজ করাবে।’’ আদালতের পর্যবেক্ষণ, চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান সংবিধানগত দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ গাফিলতি। উন্নয়ন আটকানোর জন্য জেদ করা হচ্ছে। এর পরেই রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘কখনও বলছেন উৎসব চলছে, কখনও পরীক্ষা চলছে, এখন বলছেন নির্বাচন চলছে। সুযোগ দিচ্ছি, মামলা তুলে নিন। না হলে খারিজ করে দেব।’’
চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে টানাপড়েন চলছে। মাত্র ৩১৬ বর্গমিটার অংশের জন্য আটকে রয়েছে নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রোর অরেঞ্জ লাইন সম্প্রসারণের কাজ। চিংড়িঘাটার একেবারে মোড়ে ওই অংশের কাজ শেষ করার জন্য সাময়িক ভাবে বাইপাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। কিন্তু অভিযোগ, রাজ্য সরকার অনুমতি দিচ্ছে না। ফলে কাজও এগোচ্ছে না। কলকাতা হাই কোর্ট এ বিষয়ে রাজ্য, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার অফ পুলিশ (ট্রাফিক), ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশকে (ট্রাফিক) ছাড়পত্র (এনওসি) দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। জট কাটাতে আদালতের নির্দেশে মেট্রো, রাজ্য এবং নির্মাণকারী সংস্থার একাধিক বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু সমাধান সূত্র বেরোয়নি।
নির্মাণকারী সংস্থা জানিয়েছিল, সাময়িক যান নিয়ন্ত্রণ করে চিংড়িঘাটায় মেট্রোর বাকি কাজ শেষ করতে ন’মাস লাগবে। কিন্তু হাই কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্য় ‘এনওসি’ দেয়নি বলে অভিযোগ। ফলে কাজ শুরু করা যায়নি। বর্ষবরণের অনুষ্ঠান এবং গঙ্গাসাগর মেলার জন্য রাতের ট্রাফিক আটকানো যাবে না বলে আগে জানিয়েছিল সরকার। এ বার ভোটের জন্য় সমস্যার কথাও বলা হয়েছে। রাজ্যের এই ভূমিকাতেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বলা হয়েছে, হাই কোর্টের নির্দেশেই কাজ হবে।
