
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: কোলের ছোট্ট শিশুর বয়স চার মাস পেরোলেই অনেক নতুন মায়ের মনে প্রশ্ন জাগে—এবার কি দুধের পাশাপাশি সলিড খাবার শুরু করা যাবে? পরিবার-পরিজনের নানা পরামর্শে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবে শিশুচিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময় ও পদ্ধতি মেনে চললেই এই ধাপটি হতে পারে একেবারে সহজ ও নিরাপদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ছয় মাস বয়সের আগে শিশুকে সম্পূর্ণ মায়ের দুধেই রাখা সবচেয়ে ভালো। কারণ এই সময় পর্যন্ত শিশুর পরিপাকতন্ত্র পুরোপুরি সলিড খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকে না। ছয় মাসের পর ধীরে ধীরে অল্প পরিমাণে সলিড খাবার শুরু করা যেতে পারে।
∆ খাওয়ানো শুরু করতে হবে কেবলমাত্র ডালের জল দিয়ে?
মুসুরির ডাল রান্না করলে একেবারে উপরে ভেসে থাকে যে স্বচ্ছ জলীয় স্তর, সাধারণত প্রাথমিকভাবে তাই খাওয়ানো হয় শিশুকে। চিকিৎসকদের মতে, এই জলে আলাদা করে কিছু স্বাস্থ্যগুণ থাকে না। বরং এর বদলে দেওয়া যেতে পারে ফলের নির্যাস। সহজপাচ্য ফল টুকরো করে কেটে, ব্লেন্ডারে বেটে নেওয়া যায়। এতে আয়রন সমৃদ্ধ খাদ্য পৌঁছবে শিশুর শরীরে।
∆ যে কোনও নতুন খাবারের আগে দীর্ঘ ব্যবধান?
নতুন খাবারে শিশু অভ্যস্ত হলে, পেটে সইতে পারছে কি না তা দেখার জন্য লম্বা সময় অপেক্ষা করে মায়েরা। তারপর আবারও তাকে পরিচয় করানো হয় অন্য কোনও নতুন খাবারের সঙ্গে। চিকিৎসকরা বলছেন, এই অভ্যাস খুঁতখুঁতে বাচ্চা তৈরি করে। নতুন জিনিস গ্রহনের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে দ্বিধা দেখা যায়। বদলে স্বল্প পরিমাণে একাধিক নতুন খাবারের সঙ্গে তাকে পরিচয় করানো যেতেই পারে। তবে গরুর দুধ, ডিম, বেগুন, অথবা সোয়াবিনের মতো যেসব খাবার থেকে অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেগুলো খাওয়ানোর ক্ষেত্রে দিনের ব্যবধান ও সচেতনতা দুই-ই জরুরি।
∆ মশলা দেওয়া একেবারে মানা?
ঝাল লাগবে তাই অনেকেই একেবারে বিস্বাদ খাবার দেন শিশুকে। দেখা যায়, এতে অল্পদিনেই বিরক্ত হয়ে ওঠে সে এবং খাবার না খাওয়ার জন্য বায়না ধরে। জানেন কি, ভারতীয় মশলা আসলে গুণে ভরপুর, যার কোনওটা হজমে সাহায্য করে। কোনওটা আবার অনাক্রম্যতা বাড়ায়। চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুর খাবারে সামান্য পরিমাণে ধনে, জিরে, হলুদ, আদা, রসুন, পিঁয়াজ মেশানো যায়। এতে তার স্বাদগ্রন্থি মজবুত হবে।
∆ কিছু শিশু চার মাসের বদলে ছ’মাসে প্রথম সলিড খাদ্য গ্রহণ করে। শিশুর শরীর বুঝে এবং অবশ্যই পিডিয়াট্রিশিয়ানের পরামর্শ নিয়ে তবেই কঠিন খাবার দেবেন। অকারণ চিন্তিত হবেন না। মনে রাখবেন, শিশুর সবচাইতে কাছের বন্ধু তার মা-ই। মা ব্যতিবস্ত হয়ে পড়লে তার প্রভাব শিশুর ওপরেও পড়ে।
