
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: চন্দন শুধু সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। একই সঙ্গে হিন্দুধর্ম মতে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়। তাই পুজোর কাজেও নিয়মিত চন্দনের প্রয়োজন হয়। জ্যোতিষমতেও এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী উপাদান। প্রচলিত বিশ্বাস, চন্দনের সঠিক ব্যবহার কোষ্ঠীর তিন গুরুত্বপূর্ণ গ্রহ— চাঁদ, বৃহস্পতি ও শুক্রকে একসঙ্গে শক্তিশালী করতে পারে। জীবনের নানা সমস্যার সমাধান এনে দিতে পারে। চন্দন সৌভাগ্য বৃদ্ধি করে, মানসিক শান্তি দেয় এবং অর্থ ও পারিবারিক সমস্যাও দূর করতে সাহায্য করে। কী ভাবে ব্যবহার করবেন চন্দন?
1. বৃহস্পতি শক্তিশালী করতে কী ভাবে ব্যবহার করবেন?
জ্যোতিষশাস্ত্রে চন্দন ও বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যে গভীর সংযোগের কথা বলা হয়েছে। বৃহস্পতি জ্ঞান, ভাগ্য ও উন্নতির প্রতীক। কোষ্ঠীতে বৃহস্পতি শক্তিশালী হলে জীবনে সাফল্য ও শুভ ফল লাভ করা যায়। প্রতি বৃহস্পতিবার কপালে সাদা বা হলুদ চন্দনের তিলক লাগালে ভাগ্যের উন্নতি হয় এবং মন শান্ত থাকে।
2. শুক্র শক্তিশালী করতে কী ভাবে ব্যবহার করবেন?
সাদা চন্দনকে শুক্র গ্রহের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। শুক্র শক্তিশালী হলে জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি, প্রেম ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। শুক্রবার সাদা চন্দনের তিলক লাগানো, চন্দনের সুগন্ধী ব্যবহার করা বা স্নানের জলে চন্দন মেশালে শুক্র গ্রহের প্রভাব বৃদ্ধি পায়, ফলে অর্থ ও পারিবারিক সমস্যার উপশম হয়।
3. চাঁদকে শক্তিশালী করতে কী ভাবে ব্যবহার করবেন?
চন্দন ও চাঁদ— দু’টিই শীতলতা ও মানসিক শান্তির প্রতীক। চাঁদ মনের উপর প্রভাব ফেলে। চাঁদ শক্তিশালী হলে মানুষ আবেগগত ভাবে স্থিতিশীল থাকে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। প্রতিদিন বাইরে যাওয়ার আগে কপাল ও গলায় সাদা চন্দনের তিলক লাগালে চাঁদ শক্তিশালী হয়।
4. সুখ ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধির জন্য
কোনও বৃহস্পতিবার যদি পুষ্য নক্ষত্রে থাকে তা হলে সেই দিনকে অত্যন্ত শুভ বলে গণ্য করা হয়। জ্যোতিষ মতে ওই দিন গুরু-পুষ্য যোগ সৃষ্টি হয়। এই দিনে চন্দন গাছের গোড়ায় সিঁদুর, হলুদ চাল ও জল অর্পণ করে পুজো করুন। পরের দিন সেই গাছের সামান্য কাঠ লাল কাপড়ে বেঁধে বাড়ির প্রধান দরজায় টাঙিয়ে রাখলে ঘরে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাড়ে। পরিবারে সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।
5. অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য উপায়
লাল কাপড়ে চন্দনের কাঠ বেঁধে দেবী লক্ষ্মীর চরণে অর্পণ করুন। এরপর পুজো করে সেই কাঠ বাড়িতে টাকা রাখার স্থানে রাখলে ধনসম্পদ বৃদ্ধি পায়।
6. দাম্পত্য জীবনে সুখের জন্য উপায়
শুভ দিনে চন্দনের মূল গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধ করে, ফিটকিরির সঙ্গে একটি ছোট পুঁটলিতে বেঁধে, কোমরে ধারণ করলে দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা ও সুখ বৃদ্ধি পায়।
7. নজর দোষ দূর করার উপায়
শিশুর উপর থেকে নজর কাটাতে চন্দনের ছালের ধোঁয়া দিয়ে তাকে বরণ করুন। প্রতিদিন চন্দনের তিলক দিলে নেতিবাচক শক্তি দূরে থাকে।
8. বাস্তুদোষ দূর করার উপায়
চন্দনের গুঁড়ো, অশ্বগন্ধা, গোখরু ও কর্পূর মিশিয়ে ৪০ দিন হোম করলে বাস্তুদোষ দূর হয়। এ ছাড়া বাড়ির পশ্চিম বা দক্ষিণ দিকে চন্দন গাছ লাগানোও শুভ বলে মনে করা হয়।
