Life Style News

2 hours ago

Mahashivratri 2026: মহাশিবরাত্রির ব্রত—ভক্তি, বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও আত্মশুদ্ধির মিলন

Mahashivratri 2026
Mahashivratri 2026

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সনাতন ধর্মে মহাশিবরাত্রি এক অনন্য ও পবিত্র তিথি। পুরাণ মতে, এই শুভ দিনেই দেবাদিদেব মহাদেব ও দেবী পার্বতীর পবিত্র বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। তাই মহাশিবরাত্রি কেবল উপাসনার দিন নয়, এটি মিলন, ত্যাগ ও সাধনার প্রতীক। এই তিথিতে ভক্তরা উপবাস রেখে সারা রাত জেগে প্রহরে প্রহরে শিবের আরাধনায় মগ্ন থাকেন।ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাশিবরাত্রিতে ভক্তিভরে শিবলিঙ্গে জল, দুধ, বেলপাতা ও ধতুরা অর্পণ করলে সমস্ত পাপক্ষয় হয় এবং জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, এই দিনে নিষ্ঠার সঙ্গে ব্রত পালন করলে মহাদেব ভক্তের মনস্কামনা পূরণ করেন। 

তবে মহাশিবরাত্রির ব্রত শুধু আধ্যাত্মিক দিকেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শারীরিক ও মানসিক উপকারিতাও। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, উপবাস শরীরকে ডিটক্স করতে সাহায্য করে এবং হজমতন্ত্রকে বিশ্রাম দেয়। দীর্ঘ সময় উপোস থাকায় শরীরে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় উপাদান দূর হয়। অন্যদিকে, সারা রাত জেগে ধ্যান ও জপ মানুষের মনকে একাগ্র করে, মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হয়।



∆ জেনে নিন মহাশিবরাত্রির ব্রত পালনের উপকারিতা -


১। স্বাস্থ্য ভালো থাকে: মহাশিবরাত্রির ব্রত আমাদের শরীরকে ভেতর থেকে শুদ্ধ করে। এই দিনে নির্জলা উপবাস রাখা ভালো। তবে তা সম্ভব না হলে ফল খেয়ে উপবাস রাখতে পারেন। এর ফলে আমাদের পাচনতন্ত্র বিশ্রাম পায়, লিভার ও কিডনি ডিটক্সিফাই হয়। মহাশিবরাত্রির ব্রত রাখলে শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যায়। তাই এই ব্রত পালনের পর এনার্জি বাড়ে। মহাশিবরাত্রির ব্রত পালন করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

২। মানসিক শান্তি লাভ: মহাশিবরাত্রি পালন করলে মন শান্ত হয়। শরীর হালকা হওয়ায় মনঃসংযোগ ক্ষমতা বাড়ে। তার সঙ্গে এ দিন ধ্যান ও মন্ত্রোচ্চারণ করার ফলে আমরা আরও বেশি ফোকাস করতে পারি, বিক্ষিপ্ত চিন্তা-ভাবনাকে এক জায়গায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়। মহাশিবরাত্রির ব্রত পালন করলে চাপ, হতাশা, উদ্বেগ ও নেগেটিভ চিন্তা-ভাবনা কমে। পরিষ্কার মনে সঠিক ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।

৩। পাপ থেকে মুক্তি: মহাশিবরাত্রির ব্রত পালন পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় বলে মনে করা হয়। খাঁটি ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে এই ব্রত পালন করলে কর্মফল থেকে মুক্তি মেলে। লোভ, রাগ, ঈর্ষা, কামনা, বাসনা আমাদের নিয়ন্ত্রণে আসে। এই তিথিতে সারা রাত জেগে ভোলেনাথের আরাধনা করলে কুলকুণ্ডলীনি জাগ্রত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৪। বৃহস্পতি ও শনির শুভ প্রভাব: মহাশিবরাত্রির ব্রত পালন করলে বৃহস্পতি ও শনি শুভ প্রভাব পাওয়া যায়। দাম্পত্য জীবনে সুখ বাড়ে, সন্তান লাভ হয়, শিক্ষায় সাফল্য মেলে এবং কেরিয়ারে উন্নতি করা সম্ভব হয়। সম্পদ ও সমৃদ্ধি, সম্মান ও প্রতিপত্তি লাভ হয়। অনেকেই এই ব্রত পালন করার পর জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন টের পেয়েছেন।

সব মিলিয়ে মহাশিবরাত্রির ব্রত মানে শুধু ধর্মীয় আচার পালন নয়, এটি শরীর, মন ও আত্মার পরিশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। ভক্তি ও সংযমের মধ্য দিয়েই এই তিথি মানুষকে নিয়ে যায় অন্তত শান্তি ও আত্মজাগরণের পথে।

You might also like!