
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মানেই সন্ধ্যা নামলেই টিভির সামনে পরিবার-বন্ধুদের আড্ডা। চায়ের কাপ, উত্তেজনায় ভরা মুহূর্ত আর চার-ছক্কার চিৎকার—সব মিলিয়ে উৎসবের আবহ। তবে খেলা দেখার আনন্দে অনেক সময়ই অজান্তে বেশি খেয়ে ফেলা হয় চিপ্স, পকোড়া বা নানান তেলেভাজা। মুহূর্তের স্বাদ মিললেও পরে অম্বল, গলা-বুক জ্বালা কিংবা অস্বস্তি পিছু ছাড়ে না।
বর্তমানে অনেকেই স্বাস্থ্য সচেতন। কারও ডায়াবেটিস, কারও উচ্চ কোলেস্টেরল, আবার কেউ নিয়মিত জিমে গিয়ে ওজন কমানোর চেষ্টায় ব্যস্ত। তাই খেলা দেখার সময়েও খাবার বাছাইয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। দোকান থেকে কেনা অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবারের বদলে বাড়িতেই বানানো যায় স্বাস্থ্যকর অথচ সুস্বাদু স্ন্যাক্স।
১। নাট বাটার এনার্জি বল: এক কাপ রোল্ড ওট্স, আধ কাপ মাখন, আধ কাপের মতো মধু, এক কাপ নানা রকম বীজ ও বাদাম নিন। সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে ওট্স মেখে গোল গোল করুন। এ বার বেকিং সিটে রেখে ফ্রিজে আধ ঘণ্টা রেখে দিন। খুব সুন্দর স্ন্যাক্স তৈরি হয়ে যাবে।
২। চিজ়ের সঙ্গে আনারসের স্ন্যাক্স: খুবই সহজ বানানো। আধ কাপের মতো চিজ় নিয়ে তার সঙ্গে আনারসের টুকরো মিশিয়ে নিন। উপরে এক চিমটে দারচিনির গুঁড়ো ছড়িয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। খিদে পেলে এই স্ন্যাক্স খেতে পারেন। খেতেও সুস্বাদু হবে এবং ভাজাভুজি ও মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতাও কমবে।
৩। বেকড আপেল ও পনির নাচোস: আপেল পাতলা টুকরো করে কেটে নিন। প্রতিটি টুকরোর উপর অল্প গ্রেট করা পনির বা চিজ় এবং সামান্য দারচিনি গুঁড়ো দিন। অভেনে বা তাওয়ায় ঢেকে ২-৩ মিনিট গরম করুন যত ক্ষণ না পনির বা চিজ় গলে যায়। এর পর উপরে সামান্য মধু ছড়িয়ে দিন। ছোটরাও এই স্ন্যাক্স খেতে পারে।
৪। ওট্স দিয়ে দই বড়া: ওট্স গুঁড়ো করে তার সঙ্গে সামান্য সুজি, টক দই ও জল মিশিয়ে ঘন ব্যাটার তৈরি করুন। ইডলি মেকারে বা ছোট বাটিতে অল্প অল্প করে ব্যাটার দিয়ে ভাপে সেদ্ধ করে নিন। এ বার বড়াগুলি ঠান্ডা হলে তার উপর আরও কিছুটা ফেটানো টক দই, তেঁতুলের চাটনি ও চাট মশলা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।
৫। মাখানা ও কাজুর চাট: রোস্টেড মাখানা, কাঠবাদাম এবং কাজু একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। মাখানা কিনে এনে শুকনো তাওয়ায় নেড়ে নিতে পারেন। এ বার একটি পাত্রে সামান্য অলিভ অয়েল এবং শুকনো কারি পাতা দিয়ে হালকা করে নাড়ুন। অলিভ অয়েল না থাকলে মাখন দিয়েও করতে পারেন। সেটি ছড়িয়ে দিন ওই মিশ্রণে। এই চাট কাচের জারে রেখেও দিতে পারেন। সন্ধ্যায় খেলা দেখতে দেখতে খেলে মন্দ লাগবে না।
খেলার উত্তেজনা যেন শরীরের উপর বাড়তি চাপ না ফেলে, সে দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। কারণ বিশ্বকাপের আনন্দ উপভোগ করতে গেলে সুস্থ থাকাও সমান জরুরি। তাই এবারের টি-টোয়েন্টি মরশুমে মুখরোচক কিন্তু স্বাস্থ্যসম্মত স্ন্যাক্সই হোক আড্ডার আসল আনন্দ।
