
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: শীত প্রায় বিদায় নিয়েছে। রাতে সামান্য ঠান্ডা থাকলেও ভারী লেপ–কম্বলের আর প্রয়োজন পড়ছে না। তাই অনেকেই শীতের সামগ্রী গুছিয়ে আলমারি বা ট্রাঙ্কে তুলে রাখার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে পরের মরসুমে বের করার সময় বিপাকে পড়তে হতে পারে। দীর্ঘদিন বন্ধ জায়গায় লেপ বা কম্বল রেখে দিলে আর্দ্রতার কারণে দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। শুধু তাই নয়, পোকামাকড়ও বাসা বাঁধতে পারে কাপড়ের ভাঁজে। ফলে সাধের শীতের জিনিস নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
∆ কী কী বিষয় মাথায় রাখবেন?
১. রোদে দিন: লেপ, কম্বল রেখে আগে অবশ্যই ভাল করে রোদে দেওয়া প্রয়োজন। টানা ৪-৫ ঘণ্টা কড়া রোদে রাখলে ভেতরের আর্দ্রতা দূর হয়ে যায়। এরপর সঙ্গে সঙ্গে নয়৷ ঠান্ডা হওয়ার পর ভাঁজ করতে হবে৷ চাইলে প্লাস্টিক ব্যাগ বা ভ্যাকুয়াম ব্যাগেও রাখা যেতে পারে৷
২. দুর্গন্ধ এড়াতে কী করবেন? অনেকেই দুর্গন্ধ দূর করতে বাজারের কেমিক্যাল স্প্রে বা বল ব্যবহার করেন। তবে ঘরে থাকা কর্পূর ব্যবহার করেই এই সমস্যা এড়ানো যায়।
৩. কর্পূর কীভাবে ব্যবহার করবেন? লেপ, কম্বল গুছিয়ে রাখার সময় ২-৩ টুকরো কর্পূর মাঝখানে রেখে দিন। কর্পূরের তীব্র গন্ধ ছোট পোকা, উইপোকা ও মথ দূরে রাখে এবং ছত্রাকের বৃদ্ধি কমায়। তবে কর্পূর সরাসরি কাপড়ের মধ্যে দেবেন না। ছোট সুতির কাপড় বা টিস্যুতে মুড়ে রাখুন, যাতে দাগ না পড়ে।
৪. নিমপাতার ব্যবহারযদি কর্পূর বা কেমিক্যাল ব্যবহার করতে না চান, তাহলে নিমপাতা ব্যবহার করতে পারেন। তবে ভেজা বা কাঁচা নিমপাতা কখনওই সরাসরি কম্বলের মধ্যে দেবেন না। প্রথমে নিমের ডাল ভেঙে ২-৩ দিন রোদে ভাল করে শুকিয়ে নিন। পুরো শুকিয়ে গেলে পুরনো সুতির কাপড়ে ভরে ছোট পুঁটলি বানান।
৫. লেপ, কম্বল ভাঁজ করার সময় প্রতিটি স্তরের মাঝে এই পুঁটলি রেখে দিন। একটি রজাইয়ের জন্য ২-৩টি পুঁটলি যথেষ্ট। বাক্স বা ডিভানের কোণেও কিছু শুকনো নিমপাতা ছড়িয়ে দিতে পারেন। নিমের তীব্র গন্ধে পোকা, মথ ও উইপোকা কাছে আসবে না।
সামান্য সচেতনতা ও কয়েকটি সহজ টিপস মেনে চললেই শীতের লেপ–কম্বল আগামী বছরও থাকবে একেবারে নতুনের মতো। এখনই সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে ভবিষ্যতে ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।
