
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নাকের পাশ, গাল কিংবা কপালে হঠাৎ করে বাদামি বা ধূসর রঙের ছোপ দেখা দিলে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েন। এই সমস্যাকে সাধারণভাবে মেচেতা বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মেলাসমা বলা হয়। এটি কোনও সংক্রামক রোগ নয়, বরং ত্বকের রঞ্জক বা পিগমেন্টেশনজনিত পরিবর্তন।
ত্বকের রং নির্ধারণে মূল ভূমিকা নেয় ‘মেলানোসাইট’ কোষ। এই কোষের মাধ্যমে ‘মেলানোজেনেসিস’ প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় মেলানিন নামক রঞ্জক। মেলানিনের তারতম্যের ফলেই কারও ত্বক ফর্সা, কারও শ্যামলা বা গাঢ় হয়। শুধু রং নির্ধারণই নয়, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও ত্বককে রক্ষা করে এই মেলানিন।
শরীরে হরমোনের ওঠানামা, দীর্ঘ সময় রোদে থাকা, থাইরয়েডের সমস্যা বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অসামঞ্জস্য— এই সব কারণেই মেলানিনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। কখনও কখনও টি-লিম্ফোসাইট নামক শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা বেড়ে গিয়ে মেলানোসাইট কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলেই ত্বকের কোনও অংশ গাঢ় হয়ে যায়, আবার কোথাও রং ফিকে হতে শুরু করে।
∆ মেচেতার দাগ দূর হবে কী উপায়ে?
ঘরোয়া কিছু ফেস মাস্কে ধীরে ধীরে দাগছোপ দূর হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, খুব চটজলদি এই সমস্যার সমাধান হবে না। রাতে মাস্ক লাগালেই যে সকালে দাগ দূর হয়ে যাবে তা নয়। নিয়মিত ব্যবহারে উপকার পাবেন।
১। লেবু ও মধুর মাস্ক: লেবুর রসে সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে যা দাগছোপ দূর করতে পারে, আর মধু ত্বককে নরম ও আর্দ্র রাখে। এক চামচ লেবুর রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে দাগছোপের জায়গায় লাগিয়ে রাখুন মিনিট কুড়ি। তার পর ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে ফেলুন। যদি লেবুর রসে ত্বক জ্বালা করে, তা হলে এর বদলে দুধের সর মাখলেও উপকার পাবেন।
২। কাঁচা পেঁপে ও দুধের মাস্ক: পেঁপেতে থাকা ‘প্যাপাইন’ উৎসেচক ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে দাগ দূর করতে পারে। ২ চামচ পাকা পেঁপে বাটা এবং ১ চামচ কাঁচা দুধ মিশিয়ে মুখে মেখে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে হালকা হাতে ঘষে নিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিন দিন এই মাস্ক ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।
৩। চন্দন ও গোলাপ জলের মাস্ক: চন্দন ত্বককে ঠান্ডা করে এবং রঞ্জকজনিত সমস্যা বা মেলাসমা কমাতে সাহায্য করে। ১ চামচ চন্দন গুঁড়ো, সামান্য হলুদ এবং পরিমাণমতো গোলাপ জল দিয়ে মিশিয়ে ভাল করে সারা মুখে মেখে নিন। শুকিয়ে যাওয়া অবধি অপেক্ষা করুন। তার পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত এই মাস্ক ব্যবহার করলে দাগছোপ উঠে যাবে।
