
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: জীবন চলার পথে মানিয়ে নেওয়া যেন এক অবধারিত বাস্তবতা। পরিবার, সম্পর্ক, বন্ধুত্ব কিংবা কর্মক্ষেত্র—প্রতিটি ক্ষেত্রেই কখনও না কখনও আমাদের সমঝোতা করতে হয়। কিন্তু সব মানিয়ে নেওয়া কি এক? আর সব আপসই কি দুর্বলতার লক্ষণ? প্রশ্নটা সেখানেই। আসলে মানিয়ে নেওয়া এবং আত্মসম্মান—দুটো একে অপরের বিরোধী নয়, বরং সূক্ষ্ম এক ভারসাম্যের সম্পর্ক রয়েছে তাদের মধ্যে। আপনি কাকে, কোন পরিস্থিতিতে, কতটা জায়গা দিচ্ছেন—তা-ই নির্ধারণ করে আপনার ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা। চাপের মুখে মাথা নত করা আর পরিস্থিতি সামাল দিতে কৌশলী হওয়া—এই দুইয়ের ফারাক বোঝাই আসল পরিপক্বতা। তবে চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক আপনি ঠিক কেমন।
১. কথায় কথায় সরি বলেন? অন্যায় না করলেও প্রতিক্ষেত্রে সমস্যা মেটাতে নিজেই দুঃখপ্রকাশ করেন? এটা কিন্তু প্রমাণ করে আপনি একেবারেই আত্মবিশ্বাসী নন, আত্মসম্মান বোধও তীব্র নয়। যদি কারও সঙ্গে কোনওকিছু নিয়ে মনোমালিন্য হয়, প্রথমে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন যে কোনও ভুল করেছেন কি না বা অযথা কাউকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছেন কি না, যদি উত্তর হয় ‘না’, তাহলে ভুলেও সরি বলবেন না।
২. যে কোনও মূল্যে উলটোদিকের মানুষটাকে খুশি করার চেষ্টা করেন? নিজের দিক বিবেচনা না করেই যে যা বলে তাতে হ্যাঁ বলে দেন? এটা কিন্তু আত্মসম্মান বোধ কম থাকারই প্রমাণ।
৩. সামান্য বচসার সময়ও পরিবারের সদস্যরা, সঙ্গী বা বন্ধুরা অপমান করলে তা সহ্য করে নেন? অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, ছোটবেলায় যদি খারাপ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে তার জেরে এই ধরের প্রবণতা তৈরি হয়। তবে এটা ভুল। সবার প্রথমে নিজেকে বোঝান, “অপমান সহ্য করব না।”
৪. নিজেকে নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগেন? নিজেকে ব্যর্থ ভাবেন সর্বদা? এটা কিন্তু খুব খারাপ অভ্যেস। নিজেকে ভালোবাসুন। এটা সব থেকে বেশি প্রয়োজন।
৫. অন্যের জন্য যে কোনও সময় নিজের রুটিন ঘেঁটে ফেলেন? ঠিক সময়ে খাওয়াদাওয়া করেন না? অন্য কাজও স্কিপ করেন? এই ভুলটা করবেন না।
৬. পদে পদে অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করেন? এটা কিন্তু নিজের সঙ্গেই ভয়ংকর অন্যায়। এই আচরণ আত্মসম্মান বোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। তাই একাজ করবেন না। কোনও পরিস্থিতিতেই নিজেকে অবহেলা করবেন না।
তাই মানিয়ে নেওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন—এই আপস কি সম্পর্ক রক্ষার জন্য, না কি শুধুই ভয় বা অনিশ্চয়তার কারণে? আপনার উত্তরই বলে দেবে, আপনি আদতে কতটা দৃঢ় ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ।
