
পিয়ংইয়ং, ৯ নভেম্বর : পরিবার তো দূরের কথা, ব্যক্তিগত জীবনকে বরাবরই গোপনীয়তার চাদরে ঢেকে রাখতে পছন্দ করেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উনের বোন বা স্ত্রীকে প্রকাশ্যে দেখা গেলেও এই প্রথমবার প্রকাশ্যে নিজ কন্যার সঙ্গে দেখা গেল তাকে। শুক্রবার একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ উপলক্ষে বাবা ও মেয়েকে একসঙ্গে দেখা যায়। সেদেশের প্রধান সংবাদপত্র ‘রোডং সিনমুন’-এ প্রকাশিত হয়েছে ছবিটি। সেখানে দেখা যাচ্ছে মেয়ের হাত ধরে হাঁটছেন কিম। তাঁদের পিছনেই রয়েছে নতুন ধরনের পরমাণু অস্ত্রবাহী আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলটি।
২০১১ সাল থেকে উত্তর কোরিয়ার এই শাসকের পাশে এক নারীকে মাঝে মধ্যে দেখা যেতে শুরু করে। তার পরই জানা যায় যে, তিনি রি সল-জু, কিমের স্ত্রী। অর্থাৎ উত্তর কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি। কিমের বিয়ের বেশ কিছুদিন পর সরকারিভাবে উত্তর কোরিয়া বিষয়টি ঘোষণা করে জানায়। এর কিছু দিন পরে কয়েকটি পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম দাবি করে যে, ২০১০ সালেই কিম দম্পতির একটি সন্তান হয়। যদিও তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি শুক্রবারের আগে। একইভাবে ২০১৭ সালে কিমের পুত্রসন্তান লাভের ‘খবর’ প্রচারিত হয়, তখন তার সত্যতা পাওয়া না গেলেও বিবিসি বলেছে, বিশ্বাস করা হয় যে, কিমের তিনটি সন্তান রয়েছে- দুটি কন্যা এবং একটি ছেলে, যার মধ্যে ১২ বছরের চু-আই সবার বড়। গত প্রায় মাসখানেক প্রকাশ্যে দেখা যায়নি কিমকে। অবশেষে শুক্রবার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের বিষয়টি তত্ত্বাবধানে নিজেই এসেছিলেন একনায়ক। উত্তর কোরিয়ার সংবাদপত্রটির দাবি, কেবল মেয়েই নয়, স্ত্রীকেও সঙ্গে এনেছিলেন কিম। জানা গিয়েছে, আইসিবিএম ‘হোয়াসং-১৭’ নামের ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি যেটি পিয়ংইয়ং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে তা ৬ হাজার ৪১ কিলোমিটার উচ্চতা ছুঁয়ে ৯৯৯ কিলোমিটার দূরে আছড়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কিমের দেশ যা শুরু করেছে তাতে রীতিমতো উদ্বিগ্ন জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। আতঙ্ক ছড়িয়েছে দেশগুলির জনসাধারণের মধ্যেও। সিওল জানিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে যৌথভাবে কিমের সেনার গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। শুক্রবারই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ব্যাংককে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বৈঠক করেন।
