
ইসলামাবাদ, ২১ অক্টোবর : পাকিস্তানের সংসদ নির্বাচনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের চেয়ারম্যান ইমরান খানকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)। তোশাখানা মামলায় আর্টিকেল ৬৩ (১) ধারায় আগামী ৫ বছরের জন্য ইমরান খানের বিরুদ্ধে শুক্রবার রায় ঘোষণা করা হয়। পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সিকান্দার সুলতান রাজার নেতৃত্বাধীন ৪ সদস্যের বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে এ রায় দেন।
পাকিস্তানের নিয়ম অনুযায়ী, সরকারের প্রধানরা যদি বিদেশি ব্যক্তিদের থেকে বহুমূল্য উপহার পান, তাহলে সেটি ‘তোষাখানা’তে রাখতে হবে। তবে সেই তোষাখানা থেকে উপহার বিক্রিও করা যায়। ইমরানের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠেছে, বিদেশি উপহার বিক্রি করার তথ্য গোপন করেছেন তিনি। একই অভিযোগ উঠেছে ইমরানের স্ত্রীয়ের বিরুদ্ধেও। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইমরান খানকে সরকার থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময়ও প্রকাশ্যে এসেছিল তোষাখানা সংক্রান্ত অভিযোগ।
এই অভিযোগ নিয়েই শুক্রবার রায় ঘোষণা করে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন । উপস্থিত সদস্যরা একমত হয়ে সিদ্ধান্ত নেন, আগামী পাঁচ বছরের জন্য কোনও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না ইমরান খান। সেই সঙ্গে তথ্য গোপনের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্তও করা হবে ইমরানের বিরুদ্ধে।
নির্বাচন কমিশনের এই রায় ঘোষণা হওয়ার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ইমরানের দলের নেতারা। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতা ফাওয়াদ চৌধুরী বলেছেন, পাক নির্বাচন কমিশন আসলে শাহবাজ শরিফের আজ্ঞাবহ ভৃত্য। তাঁদের নির্দেশেই ইমরান খানের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই অশান্তির আশঙ্কায় বিপুল পরিমাণে পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের অফিসের সামনে। অন্যদিকে, সমর্থকদের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার অনুরোধ করেছেন ইমরানের দলের নেতারা। প্রসঙ্গত, গত রবিবারেই পাকিস্তানের কয়েকটি উপনির্বাচনে বিপুল সাফল্য পেয়েছিল পিটিআই। ৭টি আসনের মধ্যে ৬টি আসনে জয়লাভ করেছিল ইমরানের দল। নির্বাচন এগিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন ইমরান। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের এমন রায়ের ফলে নিঃসন্দেহে চাপে পড়ে যাবে ইমরানের দল, তা বলাই বাহুল্য। উপনির্বাচনে জয় পেয়ে যে আশা জাগিয়েছিলেন ইমরান, তাও বড় সড় ধাক্কা খেল। তবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না করলেও নির্বাচনী প্রচারে কিন্তু অংশ নিতে পারবেন ইমরান।
