
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় মানেই মাঠে আগ্রাসন, আর মাঠের বাইরে খাঁটি বাঙালি খাদ্যরসিক। তাঁর বিরিয়ানি-প্রেম নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মহারাজ ফিরে গেলেন ছোটবেলার দিনগুলোয়—বিশ্বকর্মা পুজোর ঘুড়ি ওড়ানো আর খোলিলের হাতের বিরিয়ানির স্মৃতিতে।
দাদা স্পষ্ট জানালেন, নানা স্বাদের ভিড়ে তাঁর প্রথম পছন্দ কলকাতা বিরিয়ানি। মজার ছলে তুলনাও টানলেন—“এটা যেন কোহলির ব্যাটিং আর কুলদীপের ব্যাটিংয়ের তুলনা!” অর্থাৎ, নিজের শহরের স্বাদই সেরা। তবে পাঁচতারা রেস্তরাঁ নয়, তাঁর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে খোলিল নামের এক সাধারণ মানুষের রান্না। পরিবারের প্রিন্টিং প্রেসে কাজ করা খোলিলই নাকি বিশ্বকর্মা পুজোর দিন বানাতেন দুর্দান্ত বিরিয়ানি, যার জন্য সারাবছর অপেক্ষা থাকত সে।

গঙ্গোপাধ্যায়দের বাড়িতে বিশ্বকর্মা পুজো মানেই ছিল উৎসবের আমেজ। বিশাল বাড়ির একেকটা ছাদে একেকজন—কাকা, বাবা, দাদা, আর ছোট্ট সৌরভ—হাজারের বেশি ঘুড়ি উড়ত আকাশে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলত প্রতিযোগিতা, আর শেষে থাকত সেই প্রতীক্ষিত বিরিয়ানির হাঁড়ি। বাড়ির অন্য অনুষ্ঠানে খাবার আসত মেইনল্যান্ড চায়না থেকে, কিন্তু বিশ্বকর্মা পুজোর আসল আকর্ষণ ছিল একটাই—খোলিলের বিরিয়ানি। না মিষ্টি, না ফিরনি—শুধু এক হাঁড়ি ভরা সুগন্ধি স্বাদ।
তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে অভ্যাস। হৃদযন্ত্রে সমস্যা ও স্টেন্ট বসানোর পর এখন ফিটনেসেই জোর দেন সৌরভ। মটন বা চিংড়ি ছুঁয়ে দেখেন না, কার্বসও প্রায় বাদ। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকে মাছ, চিকেন, প্রচুর শাকসবজি ও ফল। অনিয়মের সুযোগ নেই আর। তবু আবেগের জায়গাটা অটুট। বছরের একদিন—নিজের জন্মদিনে—বিরিয়ানি আবারও জায়গা করে নেয় দাদার প্লেটে। হয়তো তখনই ফিরে আসে সেই বিশ্বকর্মা পুজোর আকাশভরা ঘুড়ি আর খোলিলের হাঁড়ি থেকে ভেসে আসা সুবাস।
