Breaking News

 

Entertainment

3 months ago

Rajpal Yadav: রাজপাল যাদবের কাতর আবেদনেও মন গলল না আদালতের! ‘ছেলের বিয়ে’র আর্জি খারিজ, জেলের ভাতই ভবিতব্য অভিনেতার

Rajpal Yadav
Rajpal Yadav

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: তিহাড় জেলেই কাটবে আরও কিছু রাত—৯ কোটির আইনি লড়াইয়ে হার মানতে হলো রাজপাল যাদবকে। গতকাল তাঁর ম্যানেজার গোল্ডি জামিন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী থাকলেও, ভাগ্যের চাকা ঘুরল না। বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে শেষমেশ রেহাই পেলেন না তিনি। একদিকে যখন বলিউডের সতীর্থরা তাঁর বকেয়া মেটাতে পাশে দাঁড়িয়েছেন, অন্যদিকে আইনের ফাঁস তাঁকে আরও আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলল। আদালতের এই রায় রাজপালের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনে এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

খবর, ‘বাড়িতে দাদার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান রয়েছে’ বলে কোর্টের কাছে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন রাজপাল। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে উচ্চ আদালতে পালটা ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল বলিউডের খ্যাতনামা অভিনেতাকে। পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার। অর্থাৎ আরও দিন চারেক রাজপাল যাদবকে তিহাড় জেলেই থাকতে হচ্ছে। কিন্তু কেন তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল অভিনেতাকে? জানা গিয়েছে, আদালতে বিচারপতি স্বর্ণা কান্তের বেঞ্চের তরফে রাজপালকে বলা হয়, “আপনি এর আগে অন্তত ২৫-৩০ বার হাজিরা দিয়েছেন। আপনাকে একজন সিনিয়র আইনজীবীও সহায়তা করেছিলেন। তিনি আপনার হয়ে কোর্টকে বলেছিলেন, আমার মক্কেল বিদেশে গিয়ে কিছু টাকা উপার্জন করে বকেয়া মিটিয়ে দিতে পারে। তাই আপনাকে যে ভুল পথে চালিত করা হয়েছে, সেই দাবি আপনি করতে পারবেন না। উপরন্তু অভিযোগকারী কোম্পানির পাওনা মেটাতেও কয়েক বছর ধরে দেরি করেছেন। পাশাপাশি চেক বাউন্সের মামলায় আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তিও করতে পারেননি।”

২০১০ সালে ‘আতা পাতা লাপাতা’ সিনেমার জন্য মুরালি প্রজেক্ট নামে দিল্লির এক সংস্থার থেকে ৫ কোটি টাকা ধার করেছিলেন অভিনেতা। সেই ছবির বক্স অফিসে ভরাডুবি হওয়ায় টাকা ফেরত দিতে পারেননি তিনি। ফলত, মামলা গড়ায় আদালত অবধি। এরপরই ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজপালকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা এবং তাঁর স্ত্রী। চেক বাউন্সের মামলায় সেসময়ে তাঁদের সাজা স্থগিত হয়ে যায়। ২০২৪ সালে ফের দোষী সাব্যস্ত হলেও রাজপালের সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। মামলাকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করে বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে বলেই আশা করেছিল আদালত। এরমাঝেই ঋণের বোঝা বেড়ে ৯ কোটিতে দাঁড়ায়। কিন্তু পরে জানা যায়, পঁচিশের অক্টোবর মাসে দেড় কোটি টাকা ডিমান্ড ড্রাফটে জমা দিয়েছেন অভিনেতা। তবুও এখনও ৯ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে রাজপালের। গত বৃহস্পতিবার তাই আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দিল্লিতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন অভিনেতা।

এর আগেও অবশ্য দিন তিনেক তিহাড় জেলেই থাকতে হয়েছিল তাঁকে। তবে সেবার জামিনে রেহাই পান। কিন্তু এবার পরবর্তী শুনানিতে হিল্লে না হলে আপাতত জেলের ঘানিই টানতে হবে রাজপাল যাদবকে। পাশাপাশি এও শোনা যায় যে, দীর্ঘদিন ধরে বলিউডি লাইমলাইট থেকে দূরে থাকায় তাঁর সিনেমার ভাঁড়ারেও টান পড়েছে। ফলত, হাতে কাজ না থাকায় টাকাও মেটাতে পারেননি। এবার বলিউড তারকাদের আর্থিক সাহায্যের সুবাদে বকেয়া মিটিয়ে রাজপাল যাদবের জেলমুক্তি ঘটে কিনা, নজর থাকবে সেদিকে।

You might also like!