
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: আগামী ১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আলো দেখতে চলেছে আদিত্য ধর পরিচালিত ও রণবীর সিং অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর দ্বিতীয়ভাগ। প্রথম ঝলক প্রকাশের পর থেকেই দর্শকমহলে উত্তেজনার পারদ চড়েছে চোখে পড়ার মতো। “এটা নতুন হিন্দুস্থান, ঘরে ঢুকে মারতেও পিছপা হয় না…”, —এই সংলাপেই ফেব্রুয়ারির গোড়ায় টিজারে নজর কেড়েছিলেন ‘হামজা আলি’ চরিত্রে রণবীর সিং। কিন্তু ছবির মুক্তির কাউন্টডাউন শুরু হতেই বড়সড় আইনি জটিলতার মুখে পড়েছেন পরিচালক আদিত্য ধরের প্রযোজনা সংস্থা।
সূত্রের খবর, দক্ষিণ মুম্বইয়ের ব্যস্ত ফোর্ট এলাকায় গত ৩০ জানুয়ারি থেকে জোরকদমে চলছিল ‘ধুরন্ধর ২’-এর শুটিং। পাকিস্তানের লিয়ারি শহরের আদলে তৈরি করা হয়েছিল বিশাল সেট। সরু গলি, কাঠের বারান্দা, ঘিঞ্জি বাড়িঘর—সব মিলিয়ে যেন অন্য এক ভূখণ্ডের আবহ। সেই সেটেই কখনও সঞ্জয় দত্তকে দেখা গিয়েছে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে, কখনও আবার ‘হামজা’ লুকে পাপারাজ্জিদের ক্যামেরায় ধরা দিয়েছেন রণবীর সিং। তবে এই কর্মব্যস্ততার মাঝেই একের পর এক অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করে প্রশাসনের কাছে। প্রথমে অভিযোগ ওঠে, নিয়মিত প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণে থাকা এলাকায় বিনা অনুমতিতে ড্রোন উড়িয়ে শুটিং করা হয়েছে। মুম্বই পুলিশের তরফে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় একাধিক সরকারি দপ্তর ও গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান থাকায় সেখানে আকাশপথে নজরদারি ও উড়ানের উপর কঠোর বিধিনিষেধ বলবৎ রয়েছে। সেই নিয়ম অমান্য করেই ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই এমআরএ মার্গ থানায় লোকেশন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।

কিন্তু সেখানেই শেষ নয়। এবার বৃহন্মুম্বই পুরসভার ‘এ’ ওয়ার্ডের আধিকারিকরা সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন আদিত্য ধরের প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি, শুধু অবৈধ ড্রোন ব্যবহারই নয়, শুটিং চলাকালীন একাধিকবার পুরসভার নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পুরসভাকে না জানিয়ে বারবার শুটিংয়ের স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়াই সেটে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে রান্নার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। প্রশাসনের বক্তব্য, এত বড় আকারের সেট ও ভিড়ের মধ্যে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে যে কোনও সময় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রোটোকল মানা হয়নি বলেও অভিযোগ। এই প্রেক্ষিতে বিএমসির আধিকারিকরা ডেপুটি মিউনিসিপ্যাল কমিশনারকে চিঠি লিখে সংশ্লিষ্ট স্টুডিও বা প্রযোজনা সংস্থাকে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ করার সুপারিশ করেছেন। তাঁদের দাবি, একাধিকবার সতর্ক করা সত্ত্বেও শুটিং টিম প্রশাসনিক নির্দেশ মানেনি। ফলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। পাশাপাশি জানা গিয়েছে, আইন লঙ্ঘনের দায়ে পরিচালক আদিত্য ধরকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
মুক্তির দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কৌতূহল ও বিতর্ক। বক্স অফিসের লড়াইয়ের আগে আইনের ময়দানে ‘ধুরন্ধর ২’-এর এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে বলিউড মহল থেকে সাধারণ দর্শক—সকলেই।
