
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বলিউড অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেল–এর বিরুদ্ধে চেক বাউন্স মামলায় জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করল মোরাদাবাদ আদালত। দীর্ঘদিন আদালতে হাজিরা এড়ানোর অভিযোগে এই নির্দেশ জারি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে বলিউড মহলে জোর চর্চা—তবে কি আইনি জটিলতায় পড়ে গ্রেপ্তারির মুখে পড়তে পারেন ‘গদর ২’ অভিনেত্রী?
বলিউড মাধ্যম সূত্রে খবর, এই মামলার সূচনা প্রায় এক দশক আগে। ২০১৭ সালে মোরাদাবাদের জনৈক ইভেন্ট ম্যানেজার পবন ভার্মা বলিউড অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আর্থিক জালিয়াতির মামলা দায়ের করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, শহরের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য ১৪.৫ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন আমিশা প্যাটেল। কিন্তু টাকা নিয়েও অনুষ্ঠানে হাজির হননি তিনি। শুধু তাই নয়। মামলাকারীর দাবি, মুম্বই থেকে দিল্লিতে পৌঁছেই অতিরিক্ত ২ লক্ষ টাকা চেয়ে বসেন আমিশা। কিন্তু ইভেন্ট কোম্পানি যখন সেই অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করে তখন অভিনেত্রী অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে সোজা মুম্বই ফিরে আসেন। এরপরই মোরাদাবাদ পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই ব্যক্তি। পরবর্তীতে যদিও নগদে ১০ লক্ষ টাকা ফেরত দেন আমিশা। তবে সাড়ে ৪ লক্ষ এখনও বকেয়া রয়েছে। চেক পেমেন্টের প্রতিশ্রুতি দিয়েও সেটা মেটাননি তিনি। সেই মর্মেই মোরাদাবাদ আদালতে মামলা দায়ের করেন ওই অনুষ্ঠান উদ্যোক্তা। খবর, সংশ্লিষ্ট মামলায় একাধিকবার আমিশা প্যাটেলকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও বারবার নানা কারণ দেখিয়ে তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। সোমবারও মোরাদাবাদ আদালতে নির্ধারিত শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী। এরপরই আমিশার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। আগামী ২৭ মার্চ কোর্টে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নায়িকাকে।

এদিকে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন আমিশা। তাঁর দাবি, “এই মামলা ১৫ বছর আগের। এবং সইসাবুত করে পবন ভার্মাকে সব টাকাই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও উনি মনে হয় মিথ্যে অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন। আমার আইনজীবীরা বিষয়টি দেখছেন। এবং ওই ব্যক্তির মুখোশ খোলার জন্য ইতিমধ্যেই ফৌজদারি মামলা প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তাই আমি আপাতত আমার কাজে মনোনিবেশ করছি। মিথ্যে রটিয়ে কারও দৃষ্টি আকর্ষণের সময় আমার নেই।”
উল্লেখ্য, এর আগে অনুরূপ আর্থিক মামলায় অভিনেতা রাজপাল যাদবের–এর নামও শিরোনামে উঠেছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তুলনা টানা হচ্ছে দুই তারকার ঘটনাকে ঘিরে। তবে আপাতত নজর ২৭ মার্চের আদালত শুনানির দিকেই।
