
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলার বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে জোড়াফুল ও পদ্মফুলের লড়াই ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ, আর দ্বিতীয় দফার আগে চলছে জোরদার প্রচার। এই আবহেই রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র। সম্প্রতি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নানান কটূক্তি ও ট্রোলের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। তবে বিষয়টি নতুন মোড় নেয় যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে উদ্দেশ্য করে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন অভিনেত্রী। এই ঘটনার প্রতিবাদে তিনি লাইভে এসে সরাসরি বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।
রূপাঞ্জনার বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তার জেরে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, কেবল তাঁকেই নয়, তাঁর পরিবারের সদস্যদের—বিশেষত তাঁর বৃদ্ধা মাকেও কুরুচিকর আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকার বদলে সরাসরি প্রতিবাদ করার পথই বেছে নিয়েছেন তিনি। লাইভে এসে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন,“সোশ্যাল মিডিয়ায় লুকিয়ে নয়, সামনে এসে কথা বলার সাহস থাকলে তবেই মন্তব্য করুন।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ২৫ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জমি শক্ত করেছেন। একজন সফল নারী হিসেবে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। সব কিছুর ঊর্ধ্বে তিনি একজন মহিলা। আর একজন মহিলার প্রতি এমন নিম্নরুচির মন্তব্য কীভাবে সম্ভব বিজেপির বিরুদ্ধে সেই প্রশ্নই তুলেছেন অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র।

বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে রূপাঞ্জনা বলেন,“সাচ্চা বাঙালিকে ভয় দেখাতে আসবেন না। অভয়ার জন্য নাকি রাতদখল করেছিলেন। আরে, আপনারা তো চোখ দিয়েই রেপ করে দেন। তারপর নির্লজ্জের মতো ধর্ষণ নিয়ে কথা বলেন। নারী সুরক্ষা নিয়ে কথা বলেন অথচ একজন মহিলাকে সোশাল মিডিয়ায় ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছেন। যে ভাষা ব্যবহার করেন, অশালীন গালিগালাজ করেন তাতেই বোঝা যাচ্ছে ক্ষমতায় এলে কী পরিণতি হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিজেপির গুণ্ডা কালচার ছাড়া এটা আর কিছুই নয়। আবারও বলছি সাহস থাকলে সামনে এসে হুমকি দিন। এখন তো অবশ্য কঙ্গনা, মন্দাকিনী থেকে শুরু করে বিহারে ভোজপুরী তারকাদের নিয়ে তাসা পার্টিতে ব্যস্ত। একটা কথা শুনে রাখুন যাঁরা আমাকে আক্রমণ করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করছি। পশ্চিমবঙ্গকে কখনই উত্তরপ্রদেশ, মণিপুর বা গুজরাট হতে দেব না।” ভোটের আগে এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা, যা নির্বাচনের আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
