
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রূপোলি দুনিয়ার ঝলমলে পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকে তারকাদের কঠোর পরিশ্রম আর দীর্ঘ প্রস্তুতির গল্প। দর্শক যখন প্রেক্ষাগৃহ বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে একটি চরিত্রকে নিখুঁতভাবে ফুটে উঠতে দেখেন, তার পেছনে থাকে মাসের পর মাস, কখনও বছরের পর বছর সাধনা। এমনই এক দৃষ্টান্ত গড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম, তাঁর সাম্প্রতিক ছবি হক-এ। ২০২৫ সালে নেটফ্লিক্স-এ মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিতে শাজিয়া বানোর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইয়ামি। গল্পের পটভূমি ১৯৭০-এর দশকের ভারত। যেখানে শাজিয়া বানু একজন আইনজীবীর স্ত্রী। আর স্ত্রী বর্তমান থাকতেই তাঁর স্বামী আরও একটি বিয়ে করে সংসার পাতেন। শুধু তাই নয়, স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতেও অস্বীকার করে স্বামী। নিজের অধিকার ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয় শাজিয়া।

চরিত্রের গভীরে পৌঁছতে প্রায় দেড় বছর ধরে ইসলাম ধর্ম, কোরান এবং শরিয়া আইন নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন ইয়ামি। একজন মুসলিম নারীর মানসিকতা, সামাজিক অবস্থান এবং আইনি লড়াই—সবকিছু বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলতেই এই দীর্ঘ প্রস্তুতি। ছবির পরিচালকও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামির নিষ্ঠার প্রশংসা করেছেন। তাঁর কথায়, “আমরা প্রায় দেড় বছর সময় নিয়ে ইসলামিক আইন বুঝতে চেষ্টা করেছি। অনেকটা গভীরে গিয়ে এই ছবির গবেষণা করার আরও একটি কারণ হল, বর্তমানে প্রচুর ভুল তথ্যের প্রচার করা হয়। আমরা সবসময় পথটা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। তাই সময় বেশি লাগলেও আমরা সম্পূর্ণ তথ্য নিয়েই ময়দানে নেমেছি। এখন প্রতিটি মানুষের কাছেই তথ্য আছে কিন্তু সেটা ঠিক না ভুল বোঝা কঠিন। সেই পরিস্থিতিতে আমি চেয়েছিলাম ‘হক’ যেন যুক্তির একটি কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে।”
সহ-অভিনেতা হিসেবে ছবিতে রয়েছেন ইমরান হাসমি। মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে ‘হক’। শুধু বিনোদন নয়, সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাকে তুলে ধরার জন্যও প্রশংসিত হচ্ছে ছবিটি। সব মিলিয়ে, ‘হক’ শুধু একটি সিনেমা নয়—এটি সত্য, গবেষণা এবং অভিনয়ের এক নিখুঁত মেলবন্ধন, যেখানে নিজের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছেন ইয়ামি গৌতম।
